কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে নিয়োগ পাওয়ার পরও দীর্ঘদিন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে পূর্বঘোষণা ছাড়াই মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবার মান ও সার্বিক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও শৌচাগার পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধ সরবরাহ এবং হাসপাতালে সেবা নিতে গিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে কি না, তা জানার চেষ্টা করেন।
এ সময় হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। হাসপাতালের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি দ্রুত সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে সর্দার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে এসে কোনো রোগী যেন চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রোগীরা যাতে দালাল চক্রের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, চিকিৎসকদের নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ আকস্মিক পরিদর্শনের পর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার ত্রুটি সংশোধন, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্টদের আরও তৎপর হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


