কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে সাগরে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারিয়েছেন তিন পর্যটক। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুজন। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ি মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস, লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও নিখোঁজ দুজনের সন্ধান পাননি।
পুলিশ ও লাইফগার্ড সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আসা ১২ জনের একটি দল হিমছড়ি সৈকতে বেড়াতে যায়। তাদের মধ্যে পাঁচজন সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় পাঁচজনই পানিতে তলিয়ে যান। পরে লাইফগার্ডকর্মী ও স্থানীয় লোকজন তাদের তিনজনকে উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়। বাকি দুজনকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।
নিহত তিন পর্যটক হলেন ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার মো. বোরহান (২৩), সাইফুল ইসলাম (২৩) ও নাফিসুল হক (২২)। বুধবার রাতে তাদের লাশ হিমছড়ি থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক। তিনি বলেন, নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।
বেসরকারি লাইফগার্ড প্রতিষ্ঠান সি-সেফের আঞ্চলিক পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা ১২ জনের দলটি বুধবার বিকেল ৪টার দিকে শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে হিমছড়ির মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে যায়। তাদের মধ্যে পাঁচজন সাগরে গোসল করতে নামেন। ঢেউয়ের ধাক্কায় তারা পানিতে তলিয়ে গেলে লাইফগার্ড ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। তিনজনকে উদ্ধার করা হলেও তাদের মৃত্যু হয়।
ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় গোসলে নেমে কেউ নিখোঁজ হলে উদ্ধারের জন্য সি-সেফের ২৭ জন লাইফগার্ডকর্মী রয়েছেন। কিন্তু কলাতলী থেকে দক্ষিণে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, পাটুয়ারটেক, ইনানী হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ সৈকতে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর মতো পর্যাপ্ত কর্মী নেই।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারে এখন তিন লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। বুধবার বিকেলে লাবণী পয়েন্টে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষের ভিড় দেখে অনেকে গোসল করতে দরিয়ানগর ও হিমছড়ি সৈকতের দিকে ছুটছেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
ইমতিয়াজ আহমেদের ভাষ্য, হিমছড়ি-দরিয়ানগরসহ কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে বর্তমানে অন্তত ২০টি গুপ্তখালের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোসলে নামতে নিষেধ করে একাধিক স্থানে লাল নিশানা ওড়ানো হলেও অনেকে তা মানছেন না।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারে বর্তমানে তিন লাখের বেশি পর্যটক অবস্থান করছেন। পর্যটকের চাপ বাড়ায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, গেস্টহাউস, রিসোর্ট ও কটেজের কোনো কক্ষ খালি নেই।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে সাগরে ভেসে গিয়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল।


