...|...|...

বিশ্ব

ওআইসির নতুন মহাসচিব ইসমাইল ওউলদ শেখ আহমেদ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:০৯ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৪:২৩
Shares
ওআইসির নতুন মহাসচিব ইসমাইল ওউলদ শেখ আহমেদ

ইসমাইল ওউলদ শেখ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর নতুন মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মৌরিতানিয়ার প্রবীণ কূটনীতিক এবং দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাইল ওউলদ শেখ আহমেদ। ওআইসি সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে তিনি হুসাইন ইব্রাহিম তাহার স্থলাভিষিক্ত হয়ে মহাসচিব হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার জেদ্দায় ওআইসির সদর দপ্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের ২৩তম অসাধারণ অধিবেশনে ৫৭ সদস্যবিশিষ্ট এই প্যান-ইসলামিক সংস্থার নতুন মহাসচিব হিসেবে আহমেদকে নির্বাচিত করেন সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইসমাইল ওউলদ শেখ আহমেদ। তিনি বলেন, আজ আপনারা আমাকে যে নির্বাচন করেছেন, তা আমার কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান এবং আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাপ্ত সর্বোচ্চ সম্মান।

নতুন এই মহাসচিব এই আস্থার প্রতি গভীর গর্ব এবং ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রত্যাশা পূরণে তার আন্তরিক প্রতিজ্ঞার কথা ব্যক্ত করেন।

আসন্ন সময়ের জন্য নিজের কর্মপরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে আহমেদ জানান যে, তিনি দায়িত্বের বিশালতা ও অর্পিত আস্থার ভার গভীরভাবে উপলব্ধি করে এই ম্যান্ডেট গ্রহণ করেছেন। এ সময় তিনি প্রায় দুইশ বিলিয়ন (দুইশো কোটি) মুসলমানের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন, যারা তাদের নিজ নিজ সংকট ও অধিকার রক্ষায় একটি আরও বিশিষ্ট, প্রভাবশালী এবং কার্যকর সংস্থাসম্পন্ন ওআইসি প্রত্যাশা করেন।

নতুন মহাসচিব ফিলিস্তিনকে সংগঠনের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে স্থান দিয়ে জোর দিয়ে বলেন যে, রাজনৈতিক, মানবিক এবং সাংস্কৃতিক—সব দিক থেকেই এটি ওআইসির প্রধান বা কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে টিকে থাকবে। এছাড়া ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতি মোকাবিলা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিহত করা, সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা সুসংহত করা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃহত্তর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সংস্থার প্রচেষ্টা জোরদার করারও প্রতিশ্রুতি দেন আহমেদ।

উল্লেখ্য, ৬৬ বছর বয়সি ইসমাইল ওউলদ শেখ আহমেদ ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মৌরিতানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি ইয়েমেনের জন্য জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূতের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

এর আগে, ২০১৪ সালে তিনি জাতিসংঘের মহাসচিবের উপ-বিশেষ প্রতিনিধির পাশাপাশি লিবিয়ায় জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের রেসিডেন্ট কোঅর্ডিনেটর ও মানবিক সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী এবং ইউএনএফপিএ-এর প্রতিনিধি ছিলেন এবং এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি সিরিয়াতেও একই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।