সন্তানের সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখা প্রতিটি মুসলিম অভিভাবকের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নবীজি (সা.) নিজ সন্তানের নাম রেখেছিলেন মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের নামানুসারে।
অনেককে বলতে শোনা যায় যে, ‘নিজ সন্তানের নাম যদি কোনো নবী বা কোনো বুজুর্গের নামে রাখা হয়, তাহলে কেয়ামতের দিন যখন ওই নবী বা বুজুর্গের নাম ঘোষণা করা হবে, তখন ওই নামের যত মানুষ আছে সবাই দাঁড়িয়ে যাবে; এ সময় আল্লাহ তায়ালা ওই নামের ওসিলায় সবাইকে মাফ করে দেবেন।’
তাই প্রশ্ন জাগে, এই কথা কি আসলেই সত্য? শরিয়তে কি এর কোনো ভিত্তি আছে?
এ প্রসঙ্গে রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের (মিরপুর-১২ এর) ফতোয়া বিভাগের প্রধান মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনী বলেন, এটি একটি কল্পনা প্রসূত কথা, যার কোনো ভিত্তি নেই। একই সাথে এটি শরিয়তের মেজাজেরও খেলাফ কথা। কারণ, প্রতিটি ব্যক্তির ইমান-আমল অনুসারে তার ফয়সালা হবে। নামের কারণে কাউকে মাফ করে দেওয়া হবে— এমনটি ভাববার কোনো সুযোগ শরিয়তে নেই।
আব্দুর রহমান হোসাইনী আরও বলেন, তবে নাম অবশ্যই ইসলামসম্মত ও সুন্দর অর্থবোধক হতে হবে। হাদিস শরিফে এসেছে, নিশ্চয় কেয়ামতের দিন তোমাদের তোমাদের পিতার নামসহ ডাকা হবে; সুতরাং তোমরা সন্তানদের সুন্দর নাম রাখো। (আবু দাউদ: ৪৯৪৮)
অতএব, কেবল কোনো বুজুর্গ বা নবীর নামে নাম রাখলেই পরকালে ক্ষমা পেয়ে যাওয়া যাবে না, বরং ক্ষমার জন্য প্রয়োজন খাঁটি ঈমান ও সৎ আমল।


