...|...|...

ক্যাম্পাস

ঢাবিতে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা মুছে ফেলায় ডাকসুর প্রতিবাদ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১:০৩ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:২০
Shares
ঢাবিতে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা মুছে ফেলায় ডাকসুর প্রতিবাদ

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা মুছে ফেলায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়ায় ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলীর আহ্বানে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি ও সংবাদ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বুধবার দুপুরে হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়। সেখানে আবার ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানিয়েছেন, গত সিনেটে আগের নামগুলো আগের মতো রাখার সিদ্ধান্ত হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আল সাবা বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাসের অনেক শিক্ষার্থী হলটির নাম তার নামে করার দাবি জানিয়েছিলেন। একই সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম সরিয়ে দেওয়ার দাবিও উঠেছিল বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নাম শেখ মুজিবুর রহমানের নামে থাকা শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে সাংঘর্ষিক বলে তারা মনে করেন।

ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই তারা এ বিষয়ে কথা বলছেন। তার দাবি, শেখ মুজিবুর রহমানের নামে হল থাকায় অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের হলের পরিচয় দিতে গিয়ে অস্বস্তি ও হয়রানির মুখে পড়ছেন।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থী পরিচয়কে ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততার হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হলটির নাম পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।

মুসাদ্দিক আলী বলেন, ইতোমধ্যে গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে অধিকাংশ শিক্ষার্থী নাম পরিবর্তনের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। তবে তারা কোনো নির্দিষ্ট নাম চাপিয়ে দিতে চান না। শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতেই হলটির নাম নির্ধারণ করা হোক-এটাই তাদের দাবি।

তিনি আরও বলেন, ১৬ ডিসেম্বর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় হলের ব্যানারে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকায় পুলিশ সেটি সরিয়ে নিয়েছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপমানবোধ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

হলের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডাকসুর এই নেতা। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার সুপারিশ করেছিল। একই সময়ে আরও কয়েকটি ভবনের নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছিল।

তার ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে বিষয়টি সিনেটে পাঠানো হয় এবং আবার সিন্ডিকেটে ফেরত আসে। নাম পরিবর্তনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওয়াকআউটের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আগে হলটির নাম পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন মুসাদ্দিক।

এ অবস্থায় হঠাৎ করে কেন হলটির আগের নাম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে ডাকসু।