চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খানের ছেলের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবর প্রকাশের পর তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে একটি অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকের সঙ্গে তার কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ছাত্রদলে তার পদ, বিবাহিত জীবন ও সন্তান থাকা নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি। একপর্যায়ে সাংবাদিককে প্রশ্ন করে শাহজাহান খান বলেন, মানুষ কি বিয়ে-শাদি করবে না, বাচ্চাকাচ্চা হবে না?
রবিবার (১ নভেম্বর) ছড়িয়ে পড়া ওই কথোপকথনে শাহজাহান খান বলেন, ‘আমার দল ১৭ বছর ক্ষমতায় ছিল না। ওই সময় সংগঠনে ছাত্রদল করার মতো কোনো মানুষ ছিল না? সে ক্ষেত্রে দল বিবেচনা করে আমাকে কমিটিতে জায়গা দিয়েছিল ১৮ সালে। কমিটি ভাঙা-গড়া দলের সিদ্ধান্ত। এটা কি আমার সিদ্ধান্ত?’
বিয়ে ও সন্তান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দল যখন মনে করবে, তখন কমিটি দেবে; দল যখন মনে করবে, তখন কমিটি ভেঙে দেবে। এটা দলের ইচ্ছা, তাই না? এখন এর মধ্যে বিয়ে-শাদি মানুষ করবে না? বাচ্চাকাচ্চা হবে না? একটা বাচ্চা যদি আমার ভালো কিছু করে, তার জন্য কি আমি মনের আকুতিটা জানাতে পারব না? এটা আসলে ত্রুটি না।’
সন্তান থাকার বিষয়টি অস্বীকার করার কিছু নেই উল্লেখ করে শাহজাহান খান বলেন, ‘আমার বাচ্চা থাকতে পারে, আমি কি সেটা অস্বীকার করব? এখনো পর্যন্ত দল আমাকে ছাত্রদলে রেখেছে। দল আমাকে যোগ্য মনে করেছে বলেই রেখেছে। দল কি এসব জানে না? তারেক রহমানের কাছে, আমাদের চেয়ারম্যানের কাছে কি এসব প্রতিবেদন নেই?’
কমিটি গঠনের সময় দলের নেতারা সবকিছু জানতেন বলেও দাবি করেন তিনি। শাহজাহান খান বলেন, ‘আমাদের কমিটি যখন হয়েছে, তখন সবকিছু জেনেই কমিটি দেওয়া হয়েছে। সে সময় তো আমাদের বিবাহিত-অবিবাহিত হওয়াটা বিবেচ্য ছিল না, তাই না? কমিটি দলের সিদ্ধান্ত। দল যখন মনে করবে, তখন আমাকে দায়িত্ব দেবে; আবার যখন মনে করবে, অন্য কাউকে দায়িত্ব দেবে। এটা নিয়ে এত কিছু করা ঠিক না।’
ছাত্রদল থেকে যুবদলে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্রদল করেছি, যুবদল করব-এটাই তো স্বাভাবিক। যুবদল করার এখন আমার মোক্ষম বয়স। জেলা যুবদল করারও এটাই উপযুক্ত সময়। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তো যেতে পারি না। আমি চাইলেই নিজের ইচ্ছামতো চলতে পারব না।’
এদিকে ছেলের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবর প্রকাশের পর চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ। একই সঙ্গে বিলুপ্ত করা হয়েছে মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটিও। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিবৃতিতে কমিটি বিলুপ্তির কারণ হিসেবে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শিগগিরই এসব ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

