ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশের একটি কারাগারে বিমান হামলায় এক শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছে দেশটির হুথি বিদ্রোহীরা। হামলায় একজন নারীসহ আরও সাতজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তারা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
হুথি-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি জানান, সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী আল-জাওফ প্রদেশের রাজধানী আল-হাজমের সেন্ট্রাল কারেক্টিভ ফ্যাসিলিটিতে হামলাটি চালানো হয়।
হামলার পরের পরিস্থিতির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে হুথি-পরিচালিত আল মাসিরাহ টেলিভিশন। তাদের দাবি, ভিডিওতে ধসে পড়া ভবন ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকারীদের তল্লাশি চালানোর দৃশ্য দেখা গেছে। তবে হামলার অভিযোগ নিয়ে সৌদি আরব এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবকে আল-জাওফে ‘গণহত্যা’ চালানো, গোয়েন্দা ড্রোন পরিচালনা এবং ভাড়াটে যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি ‘আগ্রাসন’ শাস্তিহীন থাকবে না।
সারি আরও দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হুথিরা চারটি সৌদি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে একটি সিএইচ-৪ ড্রোনও রয়েছে। তার দাবি, গত ১২ ঘণ্টায় ভূপাতিত হওয়া এটি দ্বিতীয় এবং গত ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থ বিমান। এসব অভিযোগের বিষয়েও রিয়াদ কোনো মন্তব্য করেনি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথি গোষ্ঠী ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, আল-জাওফ, বায়দা, দাহলে ও মারিবসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা হুথিদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূখণ্ডগত সাফল্য পেয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে হুথিদের বড় ধরনের হামলার পর সরকার-সমর্থিত বাহিনী তাইজ ও হোদাইদাহতে পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে। এতে গত ২৪ ঘণ্টায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের জন্য জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ সংঘাতরত পক্ষগুলোকে শত্রুতা বন্ধ এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
ইয়েমেনের প্রায় এক দশকের যুদ্ধে কারাগারে বিমান হামলার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২২ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সা’দা প্রদেশের একটি বন্দিশিবিরে হামলা চালালে অন্তত ৮৭ জন বন্দি নিহত এবং প্রায় ২৬৬ জন আহত হন। ২০১৯ সালে ধামার প্রদেশে হুথি-পরিচালিত একটি আটককেন্দ্রে জোটের হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হন।


