...|...|...

বিশ্ব

পাইলট-প্লাম্বার থেকে ব্যাংকার-চিকিৎসক

ইসরায়েলগামী বিমান রক্ষায় একজন নয়, অবদান রয়েছে ৫ বীরের– কারা তারা?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:২৯ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৩২
Shares
ইসরায়েলগামী বিমান রক্ষায় একজন নয়, অবদান রয়েছে ৫ বীরের– কারা তারা?

ছবি: সংগৃহীত

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে কো-পাইলটের আত্মঘাতী ও নৃশংস হামলা প্রতিহত করে ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচানোর পেছনে কাজ করেছেন পাঁচজন সাহসী ব্যক্তি। ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার ছাড়াও এই বীরদের তালিকায় রয়েছেন এক প্লাম্বার, এক ব্যাংকার, এক বীমা ব্যবসায়ী এবং একজন দন্ত চিকিৎসক।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট-এর বরাতে তাদের এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার চাঞ্চল্যকর বিবরণ সামনে এসেছে।

এনডিটিভির বরাত দিয়ে জানা যায়, গত বুধবার দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটে ওমানি এক কো-পাইলট ক্র্যাশ এক্স বা কুঠার দিয়ে মূল পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করেন এবং বিমানটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা চালান। বিমানটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে প্রায় ১৪,০০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার সময় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার অসাধারণ উপস্থিতবুদ্ধি ও সাহসিকতা দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে ককপিটের দরজা খোলার সুইচ টিপতে সক্ষম হন। এর ফলে যাত্রীরা ও ক্রুরা ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ পান। বর্তমানে সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাচ্ছার। তবে তাকে ছাড়াও আরও চার ইসরায়েলি নাগরিক জীবন বাজি রেখে হামলাকারীকে কাবু করতে এবং বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

১. ইয়ানিভ হিয়ুন (প্লাম্বার)

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তেল আবিব বিমানবন্দরে রক্তের দাগ লাগা শার্ট পরে থাকা প্লাম্বার ইয়ানিভ হিয়ুনকে দেখা যায়। তিনি জানান, ককপিটের দরজা খোলা পাওয়ার পর তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণ থেকে সরিয়ে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনেন। টেলিভিশন শো ‘মেডে’ দেখে বিমান চালানোর কৌশল শেখা ইয়ানিভ এরপর বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করেন। তিনি বলেন, হামলাকারী বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধ্বংস করার চেষ্টা করছিল।

২. আসাফ রাজুয়ান (ব্যবসায়ী)

থাইল্যান্ডের ছুটি কাটিয়ে ওই ফ্লাইটে ফিরছিলেন বীমা প্রতিষ্ঠানের মালিক আসাফ রাজুয়ান। তিনি এই ঘটনাকে ‘হরর মুভি’র সাথে তুলনা করে জানান, টয়লেটের কাছ থেকে চিৎকার শোনার পর তারা বুঝতে পারেন বিমানটি প্রায় ৯০ ডিগ্রি কোণে নিচে নেমে যাচ্ছে এবং কেউ সেটি নিয়ন্ত্রণ করছে না। অপর এক যাত্রী জভিকা মানেসের সঙ্গে তিনি ভেতরে প্রবেশ করে ক্রুদের সহায়তায় হামলাকারীকে প্রায় ৫০ মিনিট ধরে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে রাখেন।

৩. জভিকা মানেস (ব্যাংকার)

ব্যাংক লিউমির আন্ডাররাইটিং কোম্পানির সিইও জভিকা মানেস ছিলেন প্রথম সারির উদ্ধারকারীদের একজন। তিনি ফ্লাইটে বিতরণ করা মাল্টিমিডিয়া হেডফোনের ক্যাবল বা তার দিয়ে হামলাকারীকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন। তিনি জানান, রক্তে ভেসে যাওয়া ওই পরিস্থিতিতে হামলাকারী খুব শক্তিশালী ও ক্ষিপ্র ছিল, তবে প্রচুর শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করে তারা তাকে নিবৃত্ত করেন।

৪. শোটতা মুসাইভ (দন্ত চিকিৎসক)

ফ্লাইটে থাকা একমাত্র চিকিৎসক ও ডেন্টিস্ট শোটতা মুসাইভ হামলাকারীকে দমনের পর দ্রুত গুরুতর আহত পাইলট স্মিত মাচ্ছারের চিকিৎসায় এগিয়ে আসেন। তিনি জানান, পাইলটের মাথা ও হাতের জখমগুলো এত গভীর ছিল যে মনে হচ্ছিল হাত প্রায় কেটে আলাদা হয়ে গেছে। প্রচুর রক্তক্ষরণের পরও মাটিতে পড়ে থাকা আহত পাইলট সম্পূর্ণ জ্ঞান নিয়ে তাদের সাথে কথা বলে গেছেন। ডেন্টিস্ট মুসাইভের প্রাথমিক চিকিৎসার কারণেই বিমানটি অবতরণের আগপর্যন্ত পাইলটের অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছিল।