ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়। এ নির্বাচনে ৭৩ লাখেরও বেশি যোগ্য ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। ১২০টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৩৬টি রাজনৈতিক দল। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
সংবাদমাধ্যম ইয়েনি সাফাক এক প্রতিবেদনে জানায়, ভোটারদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ হলেও নির্বাচন পরিচালনায় বিশাল কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির শহর, নগর ও গ্রামীণ এলাকায় হাজার হাজার ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৩ লাখ মানুষ।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’কে জানান, নির্বাচন কমিটির প্রায় ১ লাখ কর্মী বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ও আঞ্চলিক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো নিয়োগ দিয়েছে আরও ২ লাখ কর্মী। জুলাইয়ে নেসেটে নির্বাচনী বিরতি শুরুর পর থেকেই ভোটের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের নির্বাচন। বাস্তুচ্যুত ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিরি, ফার আজা, নির ওজ ও হোলিতসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে পারছেন। এ ছাড়া সামরিক ঘাঁটিতে সেনাসদস্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী, নার্সিং হোমের বাসিন্দা এবং চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভোটারদের যাতায়াত সহজ করতে ইসরায়েল রেলওয়ে এবং ১৫ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের আন্তশহর বাস রুটে বিনামূল্যে ভ্রমণের সুবিধা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার সন্ধ্যা থেকে চালু হওয়া এ সুবিধা নির্বাচনের দিনজুড়েই কার্যকর থাকবে।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যালট হাতে গণনা করা হবে এবং এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র রাত ১০টায় বন্ধ হওয়ার পর প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট হতে আরও সময় লাগতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৬ লাখ থেকে সাড়ে ৬ লাখ ভোটার বিশেষ ‘দ্বৈত খাম’ পদ্ধতিতে ভোট দেবেন। এসব ভোট আলাদাভাবে গণনা করা হবে, যা আসন বণ্টনের চূড়ান্ত ফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচন কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে ভোট গণনা শেষ করার আশা করছেন। তবে আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের সময়সীমা ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। এখন সবার নজর কোন দল বেশি আসন পায়, তার পাশাপাশি কোন রাজনৈতিক জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারে, সেদিকেও।


