সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সাথে দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি টানতে পারেন ভারতের তারকা ওপেনার অভিষেক শর্মা। ইশান কিশানকে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনায় অসন্তুষ্ট হয়েই নাকি ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ছাড়ার কথা ভাবছেন ২৬ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটার। যদিও অভিষেককে ঘিরে এমন কোনো আলোচনা চলছে না বলে দাবি করেছে হায়দরাবাদ কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী আইপিএল মৌসুমকে সামনে রেখে অভিষেকের দলবদলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্যাট কামিন্সের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার কারণে সবশেষ আইপিএলে কয়েকটি ম্যাচে হায়দরাবাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইশান কিশান। কামিন্সের ব্যস্ত সূচির কারণে আগামী মৌসুমে তিনি আইপিএলে নাও খেলতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে ইশানকেই নিয়মিত অধিনায়ক করার পরিকল্পনা করছে এসআরএইচ আর এতেই অভিষেক অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
২০১৯ সাল থেকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সাথে আছেন অভিষেক। এই সময়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের ফ্র্যাঞ্চাইজিটিতে নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছাও ছিল তার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অধিনায়কত্বের সুযোগ না পেলেও অভিষেক অন্য কোনো দলে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হতে পারেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম। অর্থাৎ নেতৃত্বের পাশাপাশি নিয়মিত ক্রিকেট খেলার সুযোগও তার দলবদলের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে।
অভিষেককে নিয়ে ইতোমধ্যেই একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির আগ্রহের কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ানস, শুভমন গিলের নেতৃত্বাধীন গুজরাট টাইটানস ও পাঞ্জাব কিংসের সাথে অভিষেক এবং সানরাইজার্সের সম্ভাব্য যোগাযোগ হয়েছে। সম্ভাব্য গন্তব্যের তালিকায় রয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালসও। এর একটি কারণ হিসেবে অভিষেকের মেন্টর যুবরাজ সিংয়ের দলটির সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের সূত্র অনুযায়ী, ইশান কিশানকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তের পর থেকেই অভিষেক অসন্তুষ্ট। তবে অধিনায়কত্বের সুযোগ না পেলেও আপাতত অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলতে রাজি থাকতে পারেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিষেককে ঘিরে দল ছাড়ার গুঞ্জন সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সিইও কে শানমুগাম জানান, অভিষেককে নিয়ে এমন কোনো আলোচনা চলছে না।
অভিষেক শেষ পর্যন্ত হায়দরাবাদ ছাড়লে আইপিএলের দলবদলে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কলকাতা নাইট রাইডার্স ও লখনউ সুপার জায়ান্টসের মতো দলেও নেতৃত্বের জায়গা খালি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসআরএইচ ও অভিষেকের সম্পর্কের ইতি ঘটলে সেটি সরাসরি খেলোয়াড় বদল, নগদ চুক্তি নাকি নিলামের মাধ্যমে হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।


