ইতালির সিসিলি দ্বীপে অবস্থিত ইউরোপের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এটনা থেকে নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। উদ্গিরিত ছাইয়ের বিশাল মেঘ প্রায় ৪ কিলোমিটার উঁচুতে ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও রেড অ্যালার্ট জারি করেছে কাতানিয়া বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইতালির জাতীয় ভূপ্রকৃতি ও আগ্নেয়গিরিবিদ্যা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, মাউন্ট এটনার উত্তর-পূর্ব জ্বালামুখ থেকে নতুন করে এই অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়, যার ফলে প্রায় ৪ কিলোমিটার (২.৫ মাইল) উঁচুতে ছাইয়ের কুণ্ডলী বা প্লুম তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির পর তাৎক্ষণিকভাবে বিমান চলাচলের জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয় এবং সি১ আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে কাতানিয়া বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের উড়োজাহাজ অবতরণ ও উড্ডয়নের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বাধ্য হয়।
আনাদোলু এজেন্সির বরাতে বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাউন্ট এটনার আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত সমস্ত ইনকামিং বা আগমনী ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে ফ্লাইট পুরোপুরি স্থগিত করার আগে বিমানবন্দরের সক্ষমতা কমিয়ে স্বাভাবিক সময়ের প্রতি ঘণ্টায় ১২টির পরিবর্তে মাত্র ৪টি ফ্লাইট অবতরণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল।
সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির আগে ‘আইটিএ এয়ারওয়েজ’-এর অন্তত ১০টি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে, পাঁচটি ফ্লাইট পালের্মো, তিনটি ত্রাপানি এবং দুটি কমিসো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এছাড়া ভোলোটিয়ার একটি ফ্লাইটও গতিপথ পরিবর্তন করে কমিসোতে চলে যায়।
বিমানবন্দরের অপারেশনাল কোঅর্ডিনেশন ইউনিট পরবর্তীতে সি১ সেক্টরটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে সেখানে ফ্লাইট অবতরণ বা উড্ডয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলকানোলজি জানিয়েছে, মাউন্ট এটনার উত্তর-পূর্ব জ্বালামুখের নতুন এই সক্রিয়তার ফলেই এই ছাইয়ের মেঘের সৃষ্টি হয়েছে।


