নওগাঁয় বাসচালক ও সুপারভাইজারকে মারধরের জেরে দুইদিন বন্ধ থাকার পর জেলার অভ্যন্তরীণ সকল রুটে বাসচলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পর আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে বাস চলাচল।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে গাড়ী বন্ধ রেখে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ধর্মঘট শুরু করেন শ্রমিকরা। এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রশাসনের সাথে কয়েকদফা আলোচনার পর জেলার অভ্যন্তরিনসহ সকল রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নওগাঁর বদলগাছীতে যাত্রীবাহী একটি বাস গেলে সেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা বাস চালককে মারধর করে। এই ঘটনার প্রতিবাদ এবং সুষ্ঠু বিচার দাবিতে বুধবার সকাল ৭টা থেকে আবারও শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজশাহী, জয়পুরহাট, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ জেলার সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। হঠাৎ এই ধর্মঘটের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
জানা গেছে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে জেলার পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসচালক রুবেল হোসেন ও এক সুপারভাইজারকে অতর্কিত মারধর করে সিএনজি চালকরা। গুরুতর আহত অবস্থায় চালক রুবেল হোসেনকে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনার বিচার ও মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশার দৌরাত্ন বন্ধের দাবিতে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ধর্মঘটের ডাক দেন শ্রমিকরা। পরবর্তীতে প্রশাসনের সাথে কয়েকদফা আলোচনার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার সকল রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বাস মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা শহরের বাইরে দূরপাল্লার রুটে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। কিন্তু এই নিয়ম অমান্য করে আঞ্চলিক মহাসড়কে অবাধে এসব অবৈধ বাহন চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ও শ্রমিকদের সাথে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
এদিকে সকাল থেকে বাস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারন যাত্রীরা। বিকল্প বাহন হিসেবে অন্য যানবাহন ব্যবহার করতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া এবং নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়।
রাজশাহীগামী যাত্রী সবুজ হোসেন বলেন, স্ত্রীকে চিকিৎসা করানোর জন্য রাজশাহীতে নিয়ে যাবো৷ বাসস্ট্যান্ডে আসার পরে শুনি বাস বন্ধ। এখন এতোদুরের রাস্তা কীভাবে যাবো বুঝতে পারছি না। সিএনজি ওয়ালারা ভাড়া কয়েকগুন বেশি চায়। এভাবে বাস বন্ধ থাকলে আমাদের সাধারণ মানুষের চলাফেরা কঠিন হয়ে যাবে।
পোরশা থেকে আদালতে হাজিরা দিতে আসা যাত্রী তারিক হোসেন বলেন, সকালে বাড়ী থেকে বের হওয়ার পরে শুনি বাস চলাচল বন্ধ। আদালতে আজকে হাজিরা আছে। তিনদফা বিকল্প যানবাহন ব্যবহার করে এখানে আসলাম। ভাড়া প্রায় ১০০-১৫০ টাকা বেশি লাগলো। সময়ও অনেক নষ্ট হলো। আমরা চাই দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করে দেওয়া হোক।
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘প্রশাসনের সাথে আলোচনার পর যে বিষয়গুলো সিদ্ধান্ত হয়েছিল সেগুলো আমাদেরকে লিখিত আকারে দেওয়া হয়নি। যার কারণে সাধারণ শ্রমিকরা কোন ভরসা পাচ্ছে না। সেটা লিখিত আকারে দিলে আজ থেকেই বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।’
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের অভ্যন্তরীণ কিছু দ্বন্দ্বের কারণে বাস চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে না। তাদের যে দাবিগুলো ছিল সেগুলো পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে তাদের সাথে আলোচনা অব্যাহত আছে। আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।’


