শৈশবের সুকুমার রায়ের মজার ছড়া থেকে শুরু করে প্রিয়জনের একটুখানি হাসি- আমাদের জীবনের আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ। ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা আর নানা চাপের মাঝেও একটুখানি হাসি মনকে করে তুলতে পারে প্রফুল্ল। হাসির এই গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিতেই আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব হাসি দিবস।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব হাসি দিবস’।প্রতিবছর অক্টোবরের প্রথম শুক্রবার বিশ্ব হাসি দিবস উদযাপন করা হয়। হর্ষোল্লাস এবং ভাল কাজ’-এর জন্য এই দিনটিতে এ দিবস পালন করা হয়।
এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে কিভাবে আপনি দিনটি উদযাপন করবেন? আমি বলব আজকের দিনটি অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর উপযুক্ত। আপনি চাইলে সব সময় গোমড়ামুখো বন্ধুটির মুখেও আজ হাসি ফোটাতে পারেন। কিন্তু, কীভাবে হাসি ফোটাবেন?
এই প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ, দুর্দান্ত একটি কৌতুক বলে তাকে হাসাতে পারেন তা নাহলে পুরোন দিনের কোনো অদ্ভুত ঘটনা মনে করে দুজনে উচ্চ-স্বরে হাসতে পারেন। আরও অনেকভাবে হাসানো যায়, একটু ভাবলেই আপনিও বেশ কয়েকটি উপায় পেয়ে যাবেন।
যদিও আজকের দিনে আপনার মুখেও যেন হাসি থাকে। অন্তত আজকের দিনটার জন্য হলেও মুখ ভার করে থাকবেন না। পরিবারের সবার সাথেও হাসিমুখে কথা বলুন, ব্যস হয়ে যাবে আপনার হাসি দিবস উদযাপন।
‘রামগরুর ছানা হাসতে তাদের মানা, হাসির কথা শুনলে বলে, হাসব না-না, না-না!’ আপনি যদি রামগরুর ছানা না হয়ে থাকেন তাহলে আজ মন খুলে হাসুন। কারণ আমরা যখন হাসি তখন শরীরে এন্ডোরফিন তৈরি হয়। এগুলো হলো নিউরোট্রান্সমিটার যা আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে।
আচ্ছা কখনো ভেবেছেন, হাসিমুখের জন্য হলুদ রঙ কেন ব্যবহার করা হয়েছিল? কারণ হলুদ হলো প্রফুল্লতার প্রতীক, তাই হাসিমুখের জন্য এর চেয়ে ভাল রঙ আর কী হতে পারে?
হার্ভি বল বিশ্বের প্রথম ইমোজি তৈরির দাবি করেন। সেই দাবির পক্ষে-বিপক্ষে অনেক যুক্তি আছে। তবে, হার্ভির উদ্দেশ্য ছিল- এই দিনে জাতি, লিঙ্গ বা ভৌগলিক অবস্থান নির্বিশেষে সবার মাঝে আনন্দ ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া।
হার্ভি ২০০১ সালে এই পৃথিবী থেকে চলে যান। কিন্তু তিনি যে ফাউন্ডেশনটি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিলেন সেটি হলো- হার্ভে বল ওয়ার্ল্ড স্মাইল ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনটি প্রতি বছর পৃথিবীর সব মানুষকে ভালো রাখতে ও অন্যদের সঙ্গে দারুণ কিছু মুহূর্ত ভাগ করে নিতে দিবসটি পালন করে।


