...|...|...

সারাদেশ

আইফোন নয়, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে অপ্রতীমকে হত্যা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:২৪
Shares
আইফোন নয়, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে অপ্রতীমকে হত্যা

নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম। ফাইল ছবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক . নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে (১৩) আইফোনের জন্য নয়, বরং পাওনা হাজার টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।

ঘটনায় গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে -সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপ্রতীমের বাবার মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে কাজ করত এক কিশোর। সে অপ্রতীমের কাছ থেকে হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। ওই টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর টাকা ফেরত নেওয়ার কথা বলে তুহিনের সাথে দেখা করতে যায় অপ্রতীম।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, তুহিন অপ্রতীমকে লালমাই পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে টাকা দেওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে অপ্রতীম তাকে ধাক্কা দিলে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথার পেছনে কয়েকবার আঘাত করে। সময় সেখানে আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।

আঘাতে অপ্রতীম আহত হয়ে পড়লে তার সাথে থাকা আইফোন নিয়ে তুহিন তার সহযোগীরা সেখান থেকে চলে যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে তদন্তকারীদের কাছে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে আইফোন নয়, হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের তথ্যই সামনে এসেছে।

তুহিনের সাথে দীর্ঘদিনের পরিচয়

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, অপ্রতীমের সাথে তুহিনের দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। স্থানীয় কিশোর গ্যাংকিং অব কোটবাড়ি সাথেও তুহিনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে ওই গ্রুপের অস্তিত্বের তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রুপটির কয়েকটি ছবিতে অপ্রতীমকেও দেখা গেছে। তবে ওই গ্রুপের সাথে অপ্রতীমের সম্পৃক্ততা এবং হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে তুহিনের সম্পৃক্ততার তথ্য

অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের করা হত্যা মামলায় তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, শুরুতে তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। তবে সহযোগীদের নাম জানাতে সে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তুহিনের মোবাইল ফোনে অপ্রতীমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক কিশোরের বারবার কল আসার বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। পরে ওই কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

প্রতিশোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি

অপ্রতীমের মা নাহিদা বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক . কামরুন নাহাত শীলা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে তিনি জানান, আগের ওই ঘটনার সাথে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন নাহিদা বেগম।

এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর শনিবার বেলা ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।