...|...|...

ক্যাম্পাস

মানববন্ধনে কুবি শিক্ষক

অপ্রতীম হত্যার ব্যাপারে কোনো প্রহসনমূলক বিচার আমরা মানবো না

কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ২:১০
Shares
অপ্রতীম হত্যার ব্যাপারে কোনো প্রহসনমূলক বিচার আমরা মানবো না

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মানববন্ধন। ছবি: টাইমস টুডে

‘যেখানে আমরা আজকে মানববন্ধন করছি, সেখানে অপ্রতীমের বাবাকে কোর্টে ঘুরতে হচ্ছে। যতদিন এই বিচার নিষ্পত্তি না হবে; যতদিন আমরা অপ্রতীম হত্যার বিচার না পাব, ততদিন আমরা রাস্তায় দাঁড়াবো। রাষ্ট্রের কর্ণধার যারা আছেন, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবো। অপ্রতীম হত্যার ব্যাপারে কোনো প্রহসনমূলক বিচার আমরা মানবো না।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন মানবিক অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী বলেন, 'অপ্রতীমের হত্যাকারীদের সংশোধনাগারে পাঠিয়ে এই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা মানবো না। আমরা বাংলা বিভাগ পরিবার প্রথম থেকে সোচ্চার আছি। যতদিন পর্যন্ত অপ্রতীম হত্যার বিচার না হবে, যতদিন পর্যন্ত খুনিদের ফাঁসি না হবে, ততদিন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে যাব।”

মানববন্ধনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ‘বিচারের নামে প্রহসন, মানি না মানবো না’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, অপ্রতীম হত্যার বিচার চাই’, ‘অপ্রতীমের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’ এবং ‘খুনির কোনো ছাড় নাই, ফাঁসি ছাড়া নিস্তার নাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধন থেকে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা, অভিযুক্তদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণ এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ জানায়, এ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও দুই কিশোরকে (১৫ ও ১৬ বছর) এবং জড়িত সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সিয়াম বাদে বাকি তিন জন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।