ইরান ও মার্কিন সমর্থিত অক্ষের মধ্যকার চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের আঘাত হানার তথ্য সামনে এসেছে। ইরানের চালানো সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে কুয়েতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ক্যাম্প বুয়েরিং সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির স্পষ্ট ফুটেজ এবং স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্বাধীন বিশ্লেষকদের প্রতিবেদনে এই তথ্য জোরালোভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরাক সীমান্তের অত্যন্ত নিকটবর্তী কুয়েতের উত্তর মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত ক্যাম্প বুয়েরিং হলো মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান এবং সর্বাধুনিক লজিস্টিকস ও অপারেশনাল কেন্দ্র। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনা, সামরিক রসদ ও অস্ত্র সরবরাহ, এবং এভিয়েশন বা বিমানবাহিনীর কার্যক্রম নিখুঁতভাবে সমন্বয় করার ক্ষেত্রে এই ঘাঁটিটি মূল ভূমিকা পালন করে থাকে। লজিস্টিকস হাব হওয়ায় এই ঘাঁটির ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রম অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে এই ঘাঁটিতে আঘাত হানার অর্থ হলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সাপ্লাই চেইন ও এভিয়েশন নেটওয়ার্কে সরাসরি বড় ধরনের আঘাত হানা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রকাশিত স্যাটেলাইট ইমেজ এবং নতুন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘাত চলাকালে ইরানের চালানো নির্ভুল হামলায় ক্যাম্প বুয়েরিংয়ের অভ্যন্তরীণ সামরিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রকাশিত ভিডিও ও চিত্রে পরিষ্কার দেখা যায়, ঘাঁটিটির ভেতরে থাকা আধুনিক হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ, সার্ভিসিং ও মেরামতের হ্যাঙ্গারগুলো পুরোপুরি চূর্ণ-বিচূর্ণ ও ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
শুধু হ্যাঙ্গারই নয়, বরং ঘাঁটির দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রম সচল রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা এবং একটি প্রধান পাওয়ার স্টেশনও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের সামরিক কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি ও মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও মিত্র সামরিক স্থাপনাগুলোতে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তার একটি বিরাট অংশ কুয়েতের এই ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটিতেই কেন্দ্রীভূত ছিল। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট টার্গেটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস সেন্টারের ধ্বংসযজ্ঞ পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
হামলার পর থেকেই মার্কিন পেন্টাগন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্ডকম) এ ধরনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত রয়েছে। কৌশলগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে এবং নিজেদের মনোবল অক্ষুণ্ণ রাখতে ওয়াশিংটন বরাবরই এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃতি ও পরিধি নিয়ে নানা ধরনের ভিন্নমত প্রকাশ করেছে। তবে স্বাধীন স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ, ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নিবিড় প্রতিবেদনে ক্যাম্প বুয়েরিংয়ের হ্যাঙ্গার ও মূল লজিস্টিক অবকাঠামো ধ্বংসের বিষয়টি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট।
এই হামলা মার্কিন সামরিক বাহিনীর লজিস্টিক সক্ষমতাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতি ও সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে কৌশলগত চিন্তাভাবনা শুরু করতে বাধ্য করেছে।


