...|...|...

বিশ্ব

‘আমাদের হাতে বিশেষ কিছু আছে’, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ইরানের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৯ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৫৭
Shares
‘আমাদের হাতে বিশেষ কিছু আছে’, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ইরানের

ছবি: এআই জেনারেটেড।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ওয়াশিংটনকে কঠিন পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলার জন্য ইরানের হাতে এমন কিছু সক্ষমতা রয়েছে, যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। রবিবার (১ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রকাশিত হয়।

সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, ‘কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে আমরা এতটা অনড় কেন? আপনাদের হাতে কি এমন কিছু আছে, যা এখনো প্রকাশ করতে চান না? হ্যাঁ, আমাদের হাতে কিছু একটা আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে আমরা আমেরিকার শিং এমনভাবে ভেঙে দেব যে, এরপর শিংহীন এই ষাঁড় বিশ্বে কী করতে পারে, তা দেখা যাবে।’

ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বক্তব্যে সামরিক সক্ষমতার বিষয়ে ইঙ্গিত থাকলেও তিনি কী ধরনের অস্ত্র, প্রযুক্তি বা কৌশলের কথা বলছেন, তা স্পষ্ট করেননি।

কুর্দিস্তান অঞ্চলের সংবাদমাধ্যম রুদাও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে রেজায়ি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন, তবে এখনো তার জবাব দেননি। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য দেওয়ার ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

রেজায়ির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরুর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও পুরোপুরি কাটেনি।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেহরানের শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি হবে না। এ নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কয়েকটি দেশ।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার জবাবে ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়িয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দেশটির সামরিক নেতৃত্বও সম্ভাব্য হামলার জবাবে আরও বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের কথা জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে রেজায়ির কথিত ‘বিশেষ সক্ষমতা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা প্রকাশ না করায় এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।