...|...|...

জাতীয়

৭ মাসে রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি: মাহদী আমিন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৫২ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:০৪
Shares
৭ মাসে রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি: মাহদী আমিন

ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের গত সাত মাসে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই সময়ে দেশে বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার অভূতপূর্ব অগ্রগতি করেছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে জমে থাকা নানা সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে গত সাত মাসে রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে বিরোধী রাজনৈতিক মত, আদর্শ বা মূল্যবোধ দমনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অতীতে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় কিংবা নির্দিষ্ট সরকারি দফতর থেকে বিরোধী মতের মানুষের তালিকা তৈরি করে নির্দেশনার মাধ্যমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ থাকলেও বর্তমান সরকার সে ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত নয়।

তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা প্রশাসনিক ত্রুটি ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তার ভাষ্য, কোথাও অপরাধের ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আইনের শাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার এই গণতান্ত্রিক ধারা স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায়। তৃণমূল পর্যায়ে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি দেখা দিলে অতীতের মতো তা আড়াল না করে তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে তদন্ত ও প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে দমন-নিপীড়নের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়াই রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, এটি কোনো একক রাজনৈতিক দল বা জনগোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পোশাক শ্রমিক, রিকশাচালক, প্রবাসী, নারী, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ওই আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের মধ্যে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল।

আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা শতাধিক অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। এত অল্প সময়ে এত বিপুলসংখ্যক অধ্যাদেশকে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় আইনে পরিণত করার নজির বিরল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। তার দাবি, বিভিন্ন আইনের খসড়া আগেই জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়েছিল। আইন প্রণয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগও রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদ সদস্যরা সর্বস্তরের মানুষের মতামতকে আইন প্রণয়নে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছেন। প্রথমবারেই সব পরিবর্তন শতভাগ নিখুঁত না হলেও বাস্তবসম্মত মতামত পাওয়া গেলে সরকার প্রয়োজনীয় সংশোধন করছে।

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, একটি আইনকে জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত করতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারেন-এমন ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তার মতে, আইনের অক্ষরের পাশাপাশি এর মানবিক ব্যাখ্যা এবং সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, অতীতে সংবিধানের বিভিন্ন ধারার অপব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার হরণ ও মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। তাই শুধু আইন প্রণয়ন নয়, সেটির যথাযথ প্রয়োগই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মাহ্দী আমিন বলেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিএনপি সরকার পরিচালনা করলেও এই সরকার কেবল কোনো একটি দলের নয়; এটি দেশের সব মানুষের সরকার। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের যাত্রায় কোনো ঘাটতি থাকলে তা সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক মানবাধিকারের সর্বোচ্চ মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যাতে জনগণের স্বার্থে যুক্তি, তথ্য ও মুক্তমনে আলোচনা-সমালোচনা করতে পারেন, সেই পরিবেশ ধরে রাখার কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, গণতন্ত্র মানে শুধু পাঁচ বছর পরপর একদিন ভোট দেওয়া নয়। নির্বাচনে বিজয়ী দল জনগণের যে প্রত্যাশা ও আস্থা নিয়ে ক্ষমতায় আসে, পরবর্তী পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনায় সেই প্রত্যাশার কতটা প্রতিফলন ঘটছে-গণতন্ত্রের প্রকৃত মূল্যায়ন সেখানেই।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত মালিক জনগণ-এ বিশ্বাস থেকেই সরকার পরিচালিত হচ্ছে। জনগণের কাছে পূর্ণ দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

১৯৭১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশের মানুষের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় বাস্তব রূপ দিতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী এবং চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা। অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।