আগামী ৭ নভেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশের অংশগ্রহণে মহাসমাবেশ আয়োজন করা হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের মাঠে অনুষ্ঠেয় এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মহাসমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ ছাড়া দেশের ৬৪ জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকরাও (ডিডিএলজি) উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের সমস্যা, মতামত ও দাবি সরাসরি শোনার উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে এ মহাসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে গ্রাম পুলিশেরা নিজেদের অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করলেও এবার সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বক্তব্য শোনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও আইনি ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গ্রাম পুলিশ আইনি কাঠামোর অধীন একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা। তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং আইনি ক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের উপ-পরিচালকদের (ডিডিএলজি) আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রস্তাবনা পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুপারিশের ভিত্তিতে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং পরে সমাবেশে তা ঘোষণা করা হতে পারে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার ও স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক, সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত প্রতিটি নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই এসব নির্দেশনার উদ্দেশ্য।
দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ যাতে গ্রামে গ্রামে আনন্দমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তার দায় সরকার নেবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।


