...|...|...

জাতীয়

শেরেবাংলা নগরে যাচ্ছে সচিবালয়, ব্যয় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:৪৭ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:৫৬
Shares
শেরেবাংলা নগরে যাচ্ছে সচিবালয়, ব্যয় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সচিবালয় নির্মাণে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে নতুন ভবনগুলোর নকশা তৈরি করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে স্থাপত্য অধিদফতর নতুন সচিবালয়ের জন্য তিনটি পৃথক নকশা তৈরি করেছে। এর মধ্যে একটি নকশা চূড়ান্ত করে প্রকল্প প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদফতর ও স্থাপত্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় নির্মাণের তিনটি নকশা উপস্থাপন করে স্থাপত্য অধিদপ্তর। আলোচনা শেষে একটি নকশা চূড়ান্ত করে তার ভিত্তিতে প্রকল্প প্রণয়নের জন্য গণপূর্ত অধিদফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তর করা হলে বর্তমান সচিবালয়ের ভবনগুলোতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়, পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়সহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন সরকারি দফতর স্থানান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে তিনটি পৃথক নকশা উপস্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি নকশা চূড়ান্ত করার বিষয়ে সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা একমত হয়েছেন। ওই নকশা অনুযায়ী প্রকল্প তৈরি করা হবে। নকশাগুলো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়ও উপস্থাপন করা হবে।

প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুন সচিবালয় নির্মাণে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এলাকার সড়কের প্রশস্ততা ও যানবাহন চলাচলের পরিমাণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জরিপ করতে হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে নকশা তৈরি করা হয়েছে। নকশায় সংসদ ভবনের মতো কোনো ফটক রাখা হয়নি।

এদিকে নতুন সচিবালয় নির্মাণের প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করার জন্য গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহে এ প্রকল্প নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করে সরকারের বর্তমান মেয়াদে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে।

সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও একাধিকবার এ ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে এ উদ্দেশ্যে ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ হয়। তখন ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানের উত্তর দিকে এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে, যেখানে প্রতিবছর বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে ৩২ একর জমিতে নতুন সচিবালয় নির্মাণের কথা ছিল। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের মূল পরিকল্পনা অনুসরণ করে স্থাপনাটি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। পরিকল্পনায় ১৪ তলা ভিত্তির ওপর নয়তলাবিশিষ্ট চারটি প্রধান ভবন নির্মাণের কথা উল্লেখ ছিল।

সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের স্থপতি লুই আই কানের তৈরি জাতীয় সংসদ ভবনসহ শেরেবাংলা নগরের মূল নকশা দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে পরে ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার। এর পরিবর্তে বিদ্যমান সচিবালয় প্রাঙ্গণেই একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি সচিবালয়ের পশ্চিম পাশে পরিবহন পুল ও জিপিও এলাকায় নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।

পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সচিবালয় স্থানান্তর নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এরপর নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবালয়ের ভেতরে ২১ তলা ভবন নির্মাণে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়।

গত ২৬ এপ্রিল একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। ওই সভায় সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও স্থাপত্য অধিদফতরকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরপর গত পাঁচ মাসে সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। পর্যালোচনা শেষে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। স্থাপত্য অধিদফতরের তিনটি পৃথক দল তিনটি নকশা তুলে ধরে। সেখান থেকে একটি নকশা চূড়ান্ত করে প্রকল্প প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।