সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার শরশকাটি এলাকার বৈদ্যপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদটি একসময় মুখরিত থাকত মুসল্লিদের জিকির ও সালাতে। তিনটি গম্বুজের নান্দনিক নকশায় নির্মিত মসজিদটি ছিল এলাকার ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। তবে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে খাঁ খাঁ করছে মসজিদ প্রাঙ্গণ। বন্ধ রয়েছে আজান ও নামাজ আদায়। সরকারি খাস জমিতে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক ও ভ্রান্ত ধারণা এবং পরবর্তীতে নতুন মসজিদ নির্মাণের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে পুরোনো এই উপাসনালয়।
সরেজমিনে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথ উদ্যোগ ও অর্থায়নে বৈদ্যপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে মসজিদটির সৌন্দর্য বাড়াতে ছাদে নির্মাণ করা হয় তিনটি নান্দনিক গম্বুজ। তবে মসজিদটি সরকারি খাস জমির ওপর নির্মিত হওয়ায় কিছুদিন পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা মতভেদ ও বিতর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে সরকারি খাস জমিতে নামাজ আদায় করলে নামাজ হয় না-এমন একটি ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও ২০১৪ সাল পর্যন্ত মসজিদটিতে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজ আদায় করা হতো। পরবর্তীতে এলাকায় মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং খাস জমি নিয়ে বিতর্ক এড়াতে পুরোনো মসজিদটির কাছেই নতুন আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করেন স্থানীয়রা। ২০১৪ সালে নতুন মসজিদটি চালু হওয়ার পর থেকে তিন গম্বুজবিশিষ্ট পুরোনো মসজিদটিতে নামাজ আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, নামাজের স্থান সংকট এবং খাস জমি নিয়ে মতভেদের কারণে পুরোনো মসজিদটিতে নামাজ আদায় বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে পাশেই এক ব্যক্তির দান করা জমিতে একই নামে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে পুরোনো মসজিদটিতে আর আজান দেওয়া বা নামাজ আদায় করা হয়নি। ধীরে ধীরে এটি পরিত্যক্ত স্থানে পরিণত হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, খাস জমি নিয়ে ভ্রান্ত ধারণার কারণে দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্মিত মসজিদ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। একই সাথে প্রাচীন ও স্মৃতিবিজড়িত এই স্থাপনাটিকে পুরোপুরি পরিত্যক্ত অবস্থায় না রেখে দ্বীনি শিক্ষা বা অন্য কোনো পবিত্র কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মসজিদটির দীর্ঘদিনের ইমাম আব্দুল গফফার বলেন, সরকারি খাস জমিতে নির্মিত হওয়ায় সূচনালগ্ন থেকেই মসজিদটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে মতবিরোধ বিদ্যমান ছিল। এই স্থানে প্রায় ২৭ বছর নিয়মিত আজান ও নামাজ আদায় করা হয়েছে। আমি নিজেও এই পুরাতন মসজিদে শেষের কয়েকটি বছর ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছি। শুরু থেকেই মানুষের মাঝে একটি ভ্রান্ত ধারণা বিরাজ করছিল যে, সরকারি খাস জমিতে নামাজ আদায় করলে তা কবুল হয় না। পরবর্তীতে একদিকে মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং অন্যদিকে এই ভ্রান্তি ও বিতর্ক দূর করার তাগিদেই নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ইমাম আরও জানান, এক সুহৃদ ব্যক্তির দানকৃত জমিতে নতুন ভবন নির্মিত হওয়ার পর সমস্ত জামাত সেখানে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে তিনি নতুন মসজিদটিতেই নিয়মিত ইমামতি করছেন। তবে স্মৃতিঘেরা পুরাতন মসজিদ ভবনটি ভাঙা না হলেও অযত্ন ও অবহেলায় তা এখন নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রয়েছে।


