...|...|...

জাতীয়

হাসিনার দেশে ফেরার ‘কোনো চান্সই নেই’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:০৬ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৩
Shares
হাসিনার দেশে ফেরার ‘কোনো চান্সই নেই’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি শেখ হাসিনাকে জনগণের দ্বারা ‘বিতাড়িত’ উল্লেখ করে বলেন, তার রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

কেইপিজেড প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, প্রকল্পটি আগের বিএনপি সরকারের সময়ে নেওয়া হয়েছিল বলেই শেখ হাসিনার সরকার সেটিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করেনি। তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই ধরনের প্রতিহিংসামূলক হেট্রেটের (ঘৃণার) রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়া স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দেশের প্রতি কোনো দরদ ছিল না। এত সুন্দর একটা ইপিজেড গড়ে তুলছে, শুধু এটা বিএনপির সময়ে ইনিশিয়েট (শুরু) হইছে বলে ইউজ (ব্যবহার) করেনি। এইরকম সিক মেন্টালিটির (অসুস্থ মানসিকতা) কোনো মানুষ যেন আর কখনো বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদে না আসে।’

১৯৯৯ সালের ৪ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘রং হেডেড’ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘রং হেডেড (একগুঁয়ে) বলছিলেন না, জাজমেন্ট (রায়) দিয়েছিল; আসলেই এই মহিলা (শেখ হাসিনা) রং হেডেড ছিল।’

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের সরকারের সময়ে নেওয়া কোনো প্রকল্প ভালো হলে বর্তমান সরকার তা বন্ধ করবে না। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নাম পরিবর্তন করতে গেলে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সম্ভাবনা থাকায় আগের নামই রাখা হয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সো একচুয়ালি এই জাজমেন্ট ওয়াজ রাইট (তাই আসলে এই রায় সঠিক ছিল)। দ্য কান্ট্রি হ্যাড অ্যা রং হেডেড একটা স্বৈরাচার (দেশের প্রধান ছিলেন একজন একগুঁয়ে স্বৈরাচার)। স্বৈরাচার তো এমনেই একটু মাথা পাগল হয়, আর এ তো আরও রং হেডেড ছিল, জাজমেন্টও আসছে রং হেডেড।’

শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সবদিক থেকেই একটা জঘন্যতম পাগল ছিল, স্বৈরাচার ছিল; যে মানুষের ওপর অত্যাচার চালাইছে ১৫ বছর, দেশের প্রত্যেকটা ইনস্টিটিউশনকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে, লুট করার চেষ্টা করছে তার পরিবার পরিবারসহ সব লুটেরাদেরকে নিয়ে। এবং বিতাড়িত হয়েছে মানুষের দ্বারা।’

বর্তমান সরকার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এতটুকু বলতে পারবো দেশ দেশপ্রেমিকদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে ফ্রম দ্যা টপ (শীর্ষ পর্যায় থেকে)। এই সরকার এমনও কিছু করবে না যে, কোনো কিছু যদি ভালো এদেশ থাকে যারাই করুক আমরা চেষ্টা করব এটা চালু রাখতে।’

শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল সভা ও বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতে পালিয়ে যাওয়া এত ইরিলেভেন্ট (অপ্রাসঙ্গিক) এবং ওয়ার্থলেস (মূল্যহীন) একটা মানুষকে নিয়ে বসা! এই দুর্নীতির দুর্গন্ধ কে লাগাইতে চায় গায়ে?’

তিনি আরও বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার কোথায় বসে—মানে ভারতে বসে লন্ডনে ভার্চুয়ালি কথা বলবে, এগুলো ওয়ার্থলেস অ্যাক্টিভিটিজ (অর্থহীন কর্মকাণ্ড)।’

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সব ধ্বংস হয়ে গেছে। নিজেকে, দলকে, পরিবারকেও শেষ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের আসার কোনো চান্সই নাই। যে পালিয়ে যায় কোনোদিন আসতে পারে? পৃথিবীতে দেখেন, যাদেরকে লাত্থি মেরে মানুষ বের করে দেয় তাদের কিন্তু ফেরার চান্স খুব কম থাকে, মানে জিরো। বিতাড়িত হয়ে গেছে, তো রাজনীতি শেষ। বিতাড়িত হলে, মানুষ দৌড়ানি যাকে দেয়, এর আর কিছু রয় না। ইটস দি অ্যান্ড (এটাই শেষ)।’