...|...|...

বিশ্ব

হামলা বন্ধে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিচ্ছে সৌদি, মধ্যস্থতায় ইরান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:১৬ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:৫৭
Shares
হামলা বন্ধে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিচ্ছে সৌদি, মধ্যস্থতায় ইরান

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং সৌদি আরবে তাদের হামলা বন্ধ করতে ইরানের মধ্যস্থতায় ১০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রিয়াদ। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরায়েল হায়োম’-এর এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হুথিদের হামলা বন্ধ করাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ইরানের রাজধানী তেহরানে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সফরকালে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ইরান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেয়। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব দেওয়া কিংবা অর্থ সরাসরি তেহরানে নিয়ে যাওয়ার দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফরের উদ্দেশ্য আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন, সংলাপের পরিবেশ তৈরি এবং কূটনৈতিক সমাধানকে উৎসাহিত করা। এ উদ্যোগে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকেও সমর্থন দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

‘ইসরায়েল হায়োম’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন অংশ নেন। ইরানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সামরিক সহায়তার কথা থাকলেও পাকিস্তান ও তুরস্ক এখন পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া বা বড় পরিসরে সেনা মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের ভূমিকা মূলত সামরিক পরামর্শ দেওয়ার মধ্যেই সীমিত রয়েছে।

হামলায় ক্ষতির মুখে সৌদি আরব

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোয় হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় দেশটির আর্থিক ক্ষতি বেড়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানিও ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

হুথিদের হামলার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দর কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল এবং একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন পিছিয়ে দিতে হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

‘ইসরাইল হায়োম’-এর সঙ্গে কথা বলা এক সৌদি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছর আগে করা চুক্তিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় হুথিদের সঙ্গে বিরোধ আরও জটিল হয়েছে।

কী শর্তে দেওয়া হতে পারে অর্থ?

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতার আওতায় হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকার বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং সরকারি খাতের কর্মীদের বেতন পরিশোধে অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর বিনিময়ে হুথিদের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করতে হবে।

অন্যদিকে, হুথিরা সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ করেছে, সৌদি আরব আগের সমঝোতা থেকে সরে এসেছে। তাদের এ অবস্থানের পেছনে ইরানের সমর্থন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে ১০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব, তেহরানে অর্থ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা এবং কথিত সমঝোতার শর্ত সম্পর্কে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে বিষয়গুলোকে নিশ্চিত চুক্তি হিসেবে নয়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দাবি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সূত্র: এনডিটিভি, ইসরায়েল হায়োম।