পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক নৌ মিশন গঠনের উদ্যোগ বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় ঐকমত্য তৈরি না হওয়ায় এ উদ্যোগ কার্যত থমকে গেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জোট গঠনের প্রস্তাব দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন মিত্র দেশগুলোর পাশাপাশি চীনকেও এই উদ্যোগে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাবে শুরুতে বেশির ভাগ দেশ ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। অনেক দেশ অংশগ্রহণে অনাগ্রহ দেখায়, আবার কেউ কেউ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। যদিও যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছিল।
পরবর্তী সময়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা দীর্ঘায়িত হলে ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক নৌ জোট গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আরও সক্রিয় প্রচার চালাতে থাকে। একই সময়ে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প।
এ পরিস্থিতিতে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স একটি আন্তর্জাতিক নৌ মিশনে নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি দাবি করেন, এই উদ্যোগ হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও প্রতিরক্ষামূলক।
তবে পরিকল্পনা ঘোষণার পর ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে মিশনের কাঠামো, অংশগ্রহণ ও দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। ফলে এখন পর্যন্ত কোনো সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌছানো সম্ভব হয়নি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। তাই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। তবে ইউরোপের প্রস্তাবিত নৌ মিশন বাস্তবায়ন হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।


