...|...|...

সারাদেশ

স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা

সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:০৯
Shares
স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা

নিহত হৃদয় কুমার হরিজন (৩৫)। ছবি: সংগৃহীত

সিলেট নগরে স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় হৃদয় কুমার হরিজন (৩৫) নামের সিটি করপোরেশনের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। 

রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে সিলেট নগরের সুইপার কলোনি সংলগ্ন কাস্টঘর এলাকায় এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নিহতের পরিবার ও কলোনিবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের আবহ বিরাজ করছে।

নিহত হৃদয় কুমার হরিজন কাস্টঘর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক জীবনে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত আটটার দিকে কাস্টঘর এলাকায় হৃদয়ের স্ত্রী পিংকী রানীর দিকে মুঠোফোনের ক্যামেরা তাক করে ছবি তুলছিলেন আমিন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি। বিষয়টি নজরে আসতেই তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে গিয়ে এর কড়া প্রতিবাদ জানান হৃদয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি ও কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে আমিন সেখান থেকে সরে গিয়ে মুঠোফোনে কল করে আরও কয়েকজন সহযোগীকে ডেকে আনেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমিনের নেতৃত্বে একদল যুবক দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে হৃদয়ের ওপর চড়াও হয়। তারা এলোপাতাড়ি হৃদয়ের শরীরে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

ঘটনার পর স্বজনেরা দ্রুত ছুটে গিয়ে হৃদয়কে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। নিহতের ছোট ভাই অজয় কুমার হরিজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, ‘আমার ভাবির ছবি তোলার প্রতিবাদ করাই কি ভাইয়ের অপরাধ ছিল? প্রকাশ্যে আমিন ও তার সহযোগীরা মিলে আমার ভাইকে নির্মমভাবে ছুরি মেরে হত্যা করল। চারটা অবুঝ সন্তান নিয়ে ভাবি এখন কোথায় দাঁড়াবে? আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মইনুল জাকির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করেছে। মূল অভিযুক্ত আমিনসহ ঘটনার সাথে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’