...|...|...

সারাদেশ

হবিগঞ্জে বেতন-ভাতা’র দাবিতে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৫২
Shares
হবিগঞ্জে বেতন-ভাতা’র দাবিতে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি

চা শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ছবি: টাইমস টুডে

হবিগঞ্জের দেওন্দি, লালচান ও গিলানি চা বাগানের শ্রমিকরা বকেয়া বেতন-ভাতা ও বোনাসের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন।

আজ (সোমবার) সকাল থেকে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।

দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বেতন-বোনাস না পাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দাবি পূরণ না হলে কাজে না ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকে তিনটি চা বাগানের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধে অনিয়মিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে শ্রমিকদের পাশাপাশি বাগানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তিনটি বাগানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত বকেয়া বেতন-ভাতার পরিমাণ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

এদিকে, চা বাগানগুলোর আর্থিক সংকটের পেছনে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৮ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক তাদের নতুন করে কোনো ঋণ দিচ্ছে না। অথচ এর আগে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাগানগুলো ব্যাংক থেকে বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিত। ঋণখেলাপি না থাকা সত্ত্বেও কী কারণে ঋণ দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি বাগান কর্তৃপক্ষের।

তিনটি চা বাগানে সব মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার শ্রমিক রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বেতন-বোনাস না পাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের দাবি, বকেয়া বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধ না করা পর্যন্ত তারা কাজে যোগ দেবেন না। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে দেওন্দি চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছি। টাকা পেলে সব বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করে দেব। আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই টাকা পেয়ে যাব। পূজার আগেই বকেয়া পরিশোধ করতে পারব বলে আশা করছি।’

দীর্ঘদিনের এই বেতন-বোনাস সংকটের দ্রুত সমাধান এবং শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।