...|...|...

বিশ্ব

সৌদি আরবে যেকোনো হামলা মানে পাকিস্তানের ওপর হামলা: পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৫৪ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:০৭
Shares
সৌদি আরবে যেকোনো হামলা মানে পাকিস্তানের ওপর হামলা: পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের ওপর যেকোনো হামলাকে পাকিস্তানের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী সরদার মুহাম্মদ ইউসুফ। সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো ও ওমরাহ পালনকারীদের লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে নিজেদের নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে ইসলামাবাদ।

ইসলামাবাদের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের পর ‘আরব নিউজ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ইউসুফ। সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানাতে পাকিস্তানের বিভিন্ন ধর্মীয় দলের নেতা ও সংসদ সদস্যরা ওই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের বেসামরিক ও তেল স্থাপনায় হামলার পর তার এ বক্তব্য সামনে এল। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন।

ইউসুফ বলেন, সৌদি আরবের ওপর যে-ই হামলা চালাক না কেন, পাকিস্তান তা নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে। তার ভাষ্য, মক্কা ও মদিনার পবিত্রতা এবং হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী আরও জানান, সৌদি আরবকে সহায়তায় ইসলামাবাদ বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাকিস্তান ও সৌদি আরব গত বছর দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ ছাড়া আগস্টে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করেন ইউসুফ। তার দাবি, এসব চুক্তিতে কোনো সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার বিধান রয়েছে।

ওমরাহ পালনকারীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে ইউসুফ বলেন, তারা কারও সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে বা কারও ওপর হামলা চালাতে পবিত্র ভূমিতে যান না। বরং ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে ক্ষমা প্রার্থনা ও ইবাদতের উদ্দেশ্যে সেখানে যান।

সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের অন্যান্য ধর্মীয় নেতা ও রাজনীতিকেরাও সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুল গফুর হায়দারি বলেন, সৌদি আরবের প্রতি সমর্থনের বিষয়ে পাকিস্তান সরকার ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ।

এদিকে, পাক-সৌদি সলিডারিটি কাউন্সিলের পৃষ্ঠপোষক সিনেটর ড. হাফিজ আব্দুল করিম ওমরাহ পালনকারী এবং পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। জমিয়ত উলামায়ে পাকিস্তানের প্রধান শাহ ওয়াইস নূরানিও সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় আরও বিস্তৃত যৌথ ইসলামি প্রতিরক্ষা জোট গঠনের প্রস্তাব দেন।