...|...|...

সারাদেশ

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে প্রবাসীর মৃত্যু, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৩০
Shares
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে প্রবাসীর মৃত্যু, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে প্রবাসীর মৃত্যু, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন সৌরভ ইসলাম (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মাথায় গুরুতর আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে।

সৌরভের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের মুছাপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আমির ইসলাম ও রেনু বেগমের একমাত্র সন্তান। জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে গিয়ে আলসাইম কোম্পানির অধীনে জেদ্দার একটি ব্যাংকে টি-বয় হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।

স্বজন ও সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে বাসার ছাদে ছিলেন সৌরভ। এ সময় ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র জেদ্দার দিকে আসতে দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করেন। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পায়ে তার বা রশি পেঁচিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান তিনি।

সিঁড়ি থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান সৌরভ। প্রচুর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে। সকালে সাথে থাকা অন্য প্রবাসীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

সৌরভের সাথে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা জানিয়েছেন, তার লাশের আইনগত প্রক্রিয়া সৌদি আরবে চলছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সৌদি আরব থেকে এক ব্যক্তি ফোন করে সৌরভের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর দেন। একমাত্র সন্তানের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর থেকেই রায়পুরার মুছাপুর গ্রামের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া।

বুধবার সকালে সৌরভের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হয়ে পড়ছেন মা রেনু বেগম। স্বজন ও প্রতিবেশীরাও তাকে সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে জড়ো হয়েছেন।

রেনু বেগম বলেন, সৌরভ আমার একমাত্র ছেলে ছিল। ফোনে বারবার আমার খোঁজ নিত। এখন কে আমার খবর নেবে? আমি শেষবারের মতো ছেলের মুখটা দেখতে চাই। নিজের হাতে ছেলেকে মাটি দিতে চাই। সরকারের কাছে আবেদন, দ্রুত আমার ছেলের লাশ দেশে এনে দিন।

সৌরভের বাবা আমির ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বিকেলে সৌদিতে ছেলের সাথে থাকা একজন ফোন করে তার মৃত্যুর কথা জানান। তিনি ছেলের লাশ দেশে এনে নিজের হাতে দাফন করার সুযোগ করে দিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।

স্বজন তৌহিদুল ইসলাম ও কামাল মিয়া জানান, সৌরভ শান্ত, নম্র ও ভদ্র স্বভাবের ছেলে ছিলেন। ক্ষেপণাস্ত্রের আতঙ্কে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তার লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান তারা।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে নিহতের স্বজনদের কেউ এখনো তার সাথে যোগাযোগ করেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।