দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সঞ্চালন লাইনের ত্রুটি বা যান্ত্রিক কারণে মাঝে মাঝে যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে, সেটিকে 'লোডশেডিং' বলা ঠিক নয়।
রবিবার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। দেশে বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং গ্রীষ্মকালীন চাহিদা মোকাবিলার প্রস্তুতির সার্বিক চিত্র তিনি সংসদে তুলে ধরেন।
প্রশ্নোত্তর পর্বে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ গোলাম রসুল বলেন, গ্রামাঞ্চলে এখনও পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলেও বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে।
জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। ঝড়-বৃষ্টি, গাছ পড়ে লাইন ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে। তবে সেটিকে লোডশেডিং বলা ঠিক নয়।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সরকার জীবাশ্ন জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বারোপ করেছে। দেশে ৭ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন। এছাড়া ৬৬৫ মেগাওয়াট সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান। ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে।
তিনি বলেন, গ্যাসভিত্তিক, কয়লাভিত্তিক ও তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসমূহের সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতিজনিত কারণে লোডশেডিং করার প্রয়োজন হয় না।


