নারায়ণগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান আরাফাতকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অসদাচরণ ও বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা ও শৃঙ্খলা অনুবিভাগ থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত নারায়ণগঞ্জের সাবেক এসপি গোলাম মোস্তফা রাসেল (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার অনুপস্থিতির বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপ, ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি এবং কর্মস্থলেও যোগদান করেননি।
পরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (০২৫/২০২৫) করা হয়। মামলার তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
অন্যদিকে, খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত সাময়িক বরখাস্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান আরাফাত (বর্তমানে সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গত ১৯ অক্টোবর ২০২৪ থেকে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তির আবেদন করেন।
তবে তদন্তে ওই সময়ে হাসপাতালে তার ভর্তির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং এ বিষয়ে পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (০০৪/২০২৫) করা হয়।
তদন্ত শেষে হাসান আরাফাতের বিরুদ্ধেও ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে পিএসসির সুপারিশক্রমে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


