...|...|...

জাতীয়

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যালঘু না ভাবার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৩ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৩০
Shares
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যালঘু না ভাবার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় না দিয়ে বাংলাদেশের সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে পরিচিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পলাশীতে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মিছিল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবাই স্বাধীন নাগরিক এবং নাগরিকত্বের ভিত্তিতেই সবার পরিচয় হওয়া উচিত। ধর্মীয় পরিচয় ব্যক্তিগতভাবে থাকলেও রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই সমান অধিকারভুক্ত বাংলাদেশের নাগরিক।

তিনি বলেন, সমাজে দীর্ঘদিন ধরে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও এর পরিবর্তে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা বলা আরও উপযুক্ত হতে পারে। দেশের মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সহাবস্থান, পারস্পরিক সম্মান এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতে একটি ধারণা ছিল যে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ভোটব্যাংক। তবে সময়ের সাথে সেই ধারণা পরিবর্তিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্য, ধর্ম যার যার হলেও রাষ্ট্র সবার। দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো নাগরিকের সাথে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা যাবে না। সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা ও ধর্মীয় আচার পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্বও রাষ্ট্রের।

তিনি বলেন, এসব অধিকার শুধু সংবিধানে সীমাবদ্ধ রাখলেই হবে না, বাস্তব জীবনেও ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে হবে। সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় ভিন্ন হতে পারে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি স্বাধীনভাবে পালন করবেন।

তবে জাতীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবার আগে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তি বজায় থাকলেই একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।