...|...|...

সারাদেশ

শ্যামনগরে ২৫০ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, জাতীয় গ্রিডে যাবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৫
Shares
শ্যামনগরে ২৫০ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, জাতীয় গ্রিডে যাবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বাগদা চিংড়ির হ্যাচারিতে স্থাপন করা হচ্ছে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। উপজেলার ওশান হ্যাচারিতে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে প্রচলিত স্থায়ী সৌর প্যানেলের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ প্রযুক্তি। প্রয়োজন অনুযায়ী প্যানেলগুলো এক পাশে সরিয়ে নেওয়া যাবে। ফলে হ্যাচারির পুকুর ও ট্যাংকে সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছানোর পাশাপাশি উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ও জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি চালু হলে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে হ্যাচারির নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইউনিট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা। এ সময় চায়না জেনিক্সগ্রিনের পরিচালক ডন, জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) সাতক্ষীরা অঞ্চলের কর্মকর্তা সোয়াইব হোসেন, সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মো. গোলাম মোস্তফাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক (অপারেশনস) সাইমা সাজেদুল করিম বলেন, বাগদা চিংড়ির হ্যাচারিতে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশে প্রথম। বিশেষ প্রযুক্তির কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী সৌর প্যানেলগুলো এক পাশে ভাঁজ করে সরিয়ে নেওয়া যাবে। ফলে হ্যাচারির ট্যাংক শুকানোর সময় পুরো জায়গা খালি করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্পে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। ফলে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ না থাকলেও হ্যাচারিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইউনিট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। দেশের অন্যান্য চিংড়ি হ্যাচারির জন্যও প্রকল্পটি মডেল হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ওশান হ্যাচারির মালিক আব্দুল আজিজ বলেন, ২৫০ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে প্রায় ১ কোটি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এতে হ্যাচারির নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে বিদ্যুৎ খরচ কমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আগে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হ্যাচারির ছাউনি খুলে পুকুর ও ট্যাংকগুলো রোদে শুকাতে হতো। নতুন প্রযুক্তির সৌর প্যানেল ব্যবহারের ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্যানেল সরিয়ে সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছানো যাবে। এতে হ্যাচারির উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। বড় প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানাগুলো নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে। সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে ওই বিদ্যুৎ কিনবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শ্যামনগরের বিভিন্ন চিংড়ি হ্যাচারিতে এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এতে একদিকে হ্যাচারিগুলোর বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে অতিরিক্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ।

পরিদর্শনকালে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিশেষ প্যানেল স্থাপনের পদ্ধতি, হ্যাচারির উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয়, বিদ্যুৎ সংযোগ ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।