শেরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ১০ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল মুহতাসিম সায়িব (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত সায়িব শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং পৌর শহরের দমদমা কালিগঞ্জ মহল্লার বাসিন্দা মালেক মিয়ার একমাত্র সন্তান।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে তাতালপুর বিএম কলেজ রোড এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘবদ্ধ একদল কিশোর গ্যাং সদস্য সায়িবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা ১০ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে সোমবার (৮ জুন) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহতের বাবা মালেক মিয়া বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলেকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার সন্তানের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। কোনো বাবা-মায়ের যেন আর এভাবে সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়।’
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সায়িবের স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ঘটনার পরপরই ১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, শেরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের লাগামহীন তৎপরতা এখন জননিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হয়েছে। প্রকাশ্যে হামলা, মারধর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাওয়ায় তাদের বেপরোয়া মনোভাব আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কলেজ ছাত্র আল মুহতাসিম সায়িবের মর্মান্তিক মৃত্যু প্রমাণ করেছে, কিশোর গ্যাং আর শুধুমাত্র একটি সামাজিক ব্যাধি নয়; এটি এখন ভয়ংকর অপরাধচক্রে রূপ নিয়েছে।


