শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের নতুন তফসিল ও তারিখ অবিলম্বে ঘোষণার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে শাকসুর অচলাবস্থা নিরসনের দাবি জানিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা এবার চূড়ান্ত আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে আগামী রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মূল চেতনা ছিল শিক্ষাঙ্গনে লেজুড়বৃত্তিক আধিপত্যবাদ ও সন্ত্রাস রুখে সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। যার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনীহা, সময়ক্ষেপণ ও নানা অজুহাতের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেই প্রাণের দাবি বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। পূর্বে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে প্রশাসন একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, পূর্বে উচ্চ আদালতের একটি স্থগিতাদেশের কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায় এবং কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তন করতে হয়। তবে সম্প্রতি সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়েছে। ফলে বর্তমানে শাকসু নির্বাচন আয়োজনে কোনো ধরনের আইনি কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা অবশিষ্ট নেই। প্রশাসন আন্তরিক হলে অনতিবিলম্বে নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে পূর্বে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা বলেন, এর আগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবি তুলে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও করা হয়েছিল, যার জের ধরে পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীরা দাবি জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টিকারী এবং নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা দুটি নির্দিষ্ট দাবি রেখেছেন। প্রথমত, আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে অবিলম্বে নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন বাতিল করানোর জন্য যারা দায়বদ্ধ, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী রোববারের মানববন্ধনের পরও যদি প্রশাসন শাকসু নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপণের নীতি বজায় রাখে, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।



