...|...|...

রাজশাহী

আদালতের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে পালালেন হাজতি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:১৬ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:১৭
Shares
আদালতের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে পালালেন হাজতি

সিরাজগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দ্বিতীয় তলার হাজতখানা থেকে এক পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়ে বারান্দা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে গেছেন আব্দুল মমিন নামে এক হাজতি আসামি। এ ঘটনায় আদালত চত্বরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পলাতক আব্দুল মমিন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার কোবদাসপাড়া মহল্লার আব্দুস সবুরের ছেলে। তিনি একটি চুরি মামলার আসামি বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জেলা কারাগার থেকে আব্দুল মমিনকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরার জন্য আনা হয়। হাজিরা শেষে তাকে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার হাজতখানায় নেওয়া হয়। সেখানে আরেক আসামিকে হাজতখানায় ঢোকানোর সময় পুলিশ সদস্যরা মমিনকে হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি এক পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে যান।

পরে দ্বিতীয় তলার অরক্ষিত বারান্দায় গিয়ে কোনো গ্রিল বা নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় সেখান থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে দ্রুত পালিয়ে যান তিনি।

ঘটনার পরপরই কোর্ট পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করেন। এ সময় দিয়ার ধানগড়া এলাকায় নুরনবী নামে এক যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। পরে যাচাই-বাছাই করে পলাতক আসামির সাথে তার মিল না পাওয়ায় নুরনবীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, আসামি পালানোর ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে আদালত চত্বরে গেলে কোর্ট পুলিশের সদস্যদের মধ্যে ব্যস্ততা দেখা যায়। তবে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি।

দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আদালত চত্বরে অবস্থান করেও কোর্ট পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদর কোর্টের জিআরও এএসআই জুয়েল হোসেন আসামি পালানোর বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি আসামি পালানোর বিষয়টি শুনেছি। ঘটনার সময় সেখানে ছিলাম না।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সবাই আসামিকে খুঁজতে গেছে। এ বিষয়ে কোর্ট পরিদর্শকের সাক্ষাৎকার নেন।

পরে কোর্ট পরিদর্শক রওশন ইয়াজদানির সাথে কথা হলে তিনি জানান, আব্দুল মমিনকে আদালতের দ্বিতীয় তলার হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। পরে আরেকজন আসামিকে হাজতখানায় ঢোকানোর সময় তিনি এক পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে যান। এরপর বারান্দায় কোনো গ্রিল না থাকার সুযোগে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।

কোর্ট পরিদর্শক আরও জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে সদর থানাকে জানানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পর আদালতের দ্বিতীয় তলার হাজতখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে হাজতখানার পাশের বারান্দায় নিরাপত্তা গ্রিল না থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।