...|...|...

খুলনা

লোডশেডিং নয়, শার্শার সেই খামারে মাছ মরেছে অব্যবস্থাপনায়

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪৫ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৩১
Shares
লোডশেডিং নয়, শার্শার সেই  খামারে মাছ মরেছে অব্যবস্থাপনায়

যশোরের শার্শা উপজেলার আলোচিত এএফ খামারে মাছের মৃত্যুর ঘটনায় লোডশেডিংকে দায়ী করার কোনো সত্যতা পায়নি জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। বরং অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত মাছের ঘনত্ব ও অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষের কারণে মাছের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুই দিনের তদন্ত শেষে পাঁচ সদস্যের কমিটি জেলা প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোনামুখী বিলের এএফ খামারে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা সত্য হলেও এর সাথে লোডশেডিংয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। ‘লোডশেডিংয়ের কারণে মাছ মারা গেছে’-এমন সংবাদ প্রকাশের কোনো সত্যতা তদন্তে পাওয়া যায়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, খামারটির আয়তন ৪১ দশমিক ৮২ একর বা ১২৬ বিঘা। খামার কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল, সেখানে ৬০ লাখ পাবদা ও ৬০ থেকে ৭০ হাজার অন্যান্য মাছ ছিল। তবে তদন্ত কমিটি খামারের মালিক আলফাজুল হকের সাক্ষাৎ পায়নি। প্রথমে তিনি অসুস্থতার কথা জানালেও পরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মৎস্য বিভাগের কারিগরি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তদন্ত কমিটি জানায়, খামারে প্রতি শতাংশে প্রায় দেড় হাজার পাবদা ও ১৬টি কার্প জাতীয় মাছ মজুদের তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ খামারের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতি শতাংশে ৮০০টি পাবদা এবং পাঁচ থেকে ছয়টি কার্প জাতীয় মাছ চাষ করা উচিত ছিল। অর্থাৎ খামারে মাছের ঘনত্ব ছিল অতিরিক্ত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খামারের পানির গুণাগুণ পরীক্ষায় স্বাভাবিকের তুলনায় পিএইচ মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে। পানিতে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের আধিক্যের কারণে পানি সবুজ বর্ণ ধারণ করে। পাশাপাশি অ্যামোনিয়ার মাত্রাও সহনীয় পর্যায়ের চেয়ে বেশি ছিল।

তদন্ত কমিটির মতে, অতিরিক্ত মাছের ঘনত্ব, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের আধিক্য এবং অপর্যাপ্ত এয়ারেশন-এই তিনটি বিষয় পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হয়ে মাছের মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৪২ একর জলাশয়ের জন্য খামারে মাত্র পাঁচটি দুই হর্সপাওয়ার ক্ষমতার এয়ারেটর ব্যবহার করা হচ্ছিল। অথচ প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩০টি এয়ারেটরের। এছাড়া খামার কর্তৃপক্ষ বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও রাখেনি।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার রাতে রাত ১টা ৪২ মিনিট থেকে ২টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত মোট ৪৪ মিনিট লোডশেডিং ছিল। এর আগের রাতে সব মিলিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। তদন্ত কমিটির মতে, এত অল্প সময়ের লোডশেডিং মাছ মৃত্যুর কারণ হতে পারে না। কারণ একই এলাকায় থাকা আরও ১২টি বড় মাছের ঘেরে এমন ঘটনা ঘটেনি।

জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন, নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেন, শার্শা উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা শুভেন্দু হালদার এবং একই উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সজীব সাহা।

প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট রাতে শার্শার ওই খামারে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার মাছ মারা যায়। এরপর খামার কর্তৃপক্ষ এর জন্য বিদ্যুতের লোডশেডিংকে দায়ী করেছিল।