...|...|...

সারাদেশ

লালমনিরহাট আদালতে ৩১ হাজারের বেশি মামলা, বিচারক সংকটে ভোগান্তি

শাহিন জামান, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৪৩
Shares
লালমনিরহাট আদালতে ৩১ হাজারের বেশি মামলা, বিচারক সংকটে ভোগান্তি

জেলা ও দায়রা জজ আদালত, লালমনিরহাট। ছবি: টাইমস টুডে

বিচারক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে লালমনিরহাট জেলা আদালতের বিচারিক কার্যক্রম। এতে বাড়ছে মামলার জট, দীর্ঘ হচ্ছে বিচারপ্রক্রিয়া। দূরদূরান্ত থেকে আদালতে এসেও অনেক বিচারপ্রার্থীকে শুনানি ছাড়াই পরবর্তী তারিখ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত লালমনিরহাট জেলা আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলিয়ে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩১ হাজার ৬৪৯টি। এর মধ্যে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে রয়েছে ১১ হাজার ৫৪৭টি মামলা। এসব মামলা পরিচালনায় ৯টি এজলাস থাকলেও বিচারকের অনুমোদিত ৯টি পদের মধ্যে ছয়টিই শূন্য রয়েছে। ফলে সীমিতসংখ্যক বিচারককে বিপুলসংখ্যক মামলা পরিচালনা করতে হচ্ছে।

জেলার পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলায় মামলার সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে পাটগ্রামের বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাট আদালতের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। এসব এলাকার বাদী-বিবাদীদের হাজিরা দিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আদালতে আসতে হয়। কিন্তু বিচারক সংকট কিংবা শুনানি না হওয়ার কারণে অনেককে সময় ও অর্থ ব্যয় করেও ফিরে যেতে হচ্ছে।

পাটগ্রামের বুড়িমারী থেকে আসা মামলার বাদী আ. রহিম বলেন, মামলার হাজিরা দিতে সময়মতো আদালতে পৌঁছানোর জন্য ভোরে ট্রেনে উঠতে হয়। এত কষ্ট করে এসে শুনানি হবে না জানতে পারলে হতাশ লাগে। পরবর্তী তারিখের জন্য আবার মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়।

বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে আদালতের অবকাঠামোগত সংকটও। ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথক হলেও জেলায় এখনো স্বতন্ত্র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মিত হয়নি। পুরোনো জেলা জজ আদালত ভবনের সঙ্কীর্ণ কক্ষে চলছে বিচারিক কার্যক্রম। সেখানে আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাক্ষীদের বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। আসামিদের অবস্থানের জন্যও রয়েছে স্থানসংকট।

এ ছাড়া নারী বিচারপ্রার্থীদের জন্য আলাদা বসার জায়গা, পর্যাপ্ত শৌচাগার, নামাজের স্থান ও ব্রেস্টফিডিং কর্নারের মতো প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাব রয়েছে। ফলে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের নানা অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বলেন, জনসংখ্যা ও মামলার সংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী বিচারক ও অবকাঠামো বাড়েনি। ফলে কর্মরত বিচারকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। নতুন মামলার পাশাপাশি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তিতেও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, শূন্য পদগুলোতে দ্রুত বিচারক নিয়োগ এবং সিজেএম আদালতের জন্য পৃথক ভবন নির্মাণ করা হলে বিচারিক কার্যক্রমের গতি বাড়বে এবং মামলার জট কমাতে সহায়তা করবে।