রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চে প্রবেশকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে লঞ্চকর্মীদের কথা-কাটাকাটি, মারধর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে জবি ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও লঞ্চ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করেন। সন্ধ্যার দিকে লঞ্চে প্রবেশের সময় কর্মীরা তাদের বাধা দিলে এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই দুই শিক্ষার্থী একজন লঞ্চকর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে ঘটনাস্থলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল। ইতিহাস বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইদ ও নাইম; একই শিক্ষাবর্ষের থিয়েটার বিভাগের শিক্ষার্থী নাইম, আইইআর বিভাগের তাজ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের রাজনীতির সাথে যুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বহিষ্কৃত শের আলী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের অনুসারী।
ঘটনার পর মোবাইল ফোন ভাঙা ও চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এ সময় ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় বলে জানিয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতি সংশ্লিষ্টরা।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের এক কর্মী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রায়ই সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে এসে গাঁজা ও বিভিন্ন মাদক সেবন করেন। এ কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে লঞ্চে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
তিনি বলেন, এই ঘটনার পর আমরা লঞ্চ মালিক সমিতির অফিসে বসি। সেখানেও এক দফা কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।
প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লু বলেন, আর্থিক লেনদেনের কত টাকা নিয়েছে, সেটা আমি বলতে পারছি না। তবে তারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা নিয়েছেন। পুরান ঢাকা, বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রদূত ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাই আমরা চাই, কেউ যেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট না করে।
এদিকে মীমাংসার নামে টাকা দাবির বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম ও পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবের সাথে উপস্থিত ছাত্রদলকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের জোর করে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, বন্ধু বান্ধবের সাথে সদরঘাটে গেঞ্জামের সূত্রপাতে অনেক শিক্ষার্থীরা ওখানে গিয়েছে। জবিয়ানদের প্রশ্নে ও বন্ধুত্বের খাতিরে গিয়েছে সেখানে ছাত্রদলের দু-একজন সদস্য থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।
‘ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে এ চাঁদাবাজি করলে ছাত্রদল এর দায়ভার নেবে না। তারা ছাত্রদলের কর্মী নয়। আর যদি ছাত্রদলের কেউ থাকে, তাহলে ছাত্রদল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


