...|...|...

ক্যাম্পাস

রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করা হোক: অপ্রতীমের বাবা

কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৩৩
Shares
রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করা হোক: অপ্রতীমের বাবা

অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। ছবি: টাইমস টুডে

‘একজন বাবা হিসেবে আমার একটাই চাওয়া- আমার সন্তানের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসুক এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হোক। শিশু আইনের অনেক বিষয় একজন বাবা হিসেবে আমি জানি না, বুঝিও না। যাদের শিশু আইনের আওতায় গাজীপুরে পাঠানো হয়েছে, প্রয়োজনে তাদের বায়োলজিক্যাল বা রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করা হোক।’

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে কুবি ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের সাথে অংশীজনদের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।

তিনি বলেন, ‘আমার সন্তান অপ্রতীম খুন হবে, এটা আমরা কখনো চিন্তাও করিনি। একজন বাবা হিসেবে আমার সর্বোচ্চ চিন্তা ছিল, সে যেহেতু পথে-ঘাটে বাইরে চলাফেরা করে, কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এভাবে আমার সন্তানকে হারাতে হবে, সেটা কখনো কল্পনাও করিনি। আমরা প্রায় ১১–১২ বছর ধরে কুমিল্লায় বসবাস করছি। এই শহরকে আমরা আপন করে নিয়েছি। আমার ছেলে কুমিল্লাতেই হাঁটতে শিখেছে, কুমিল্লার মানুষের হাত ধরে বড় হয়েছে। এমনকি সে কুমিল্লার ভাষায় কথা বলত। আমার কাছে তার কিছু রেকর্ডও আছে, যেখানে বন্ধুদের সাথে কথা বলার সময় সে কুমিল্লার ভাষায় কথা বলত।’

অপ্রতীমের বাবা আরও বলেন, ‘আমার ছেলেকে হারানো শুধু আমার একার হারানো নয়। আমি মনে করি, কুমিল্লা তার একজন সন্তানকে হারিয়েছে। কুমিল্লার মানুষের সাথে আমাদের যে সম্পর্ক, যে ভালোবাসা—সেই জায়গা থেকেই আমি বিশ্বাস করি, আমার সাথে কুমিল্লার মানুষও আমার সন্তানের ন্যায়বিচার চান।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত, যাদের নিয়ে তদন্ত চলছে এবং যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট হবে, আমি তাদের বিষয়ে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার চাই। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের প্রতি আমার আস্থা আছে। আমি বিশ্বাস করি, প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে আইনের মাধ্যমে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

সভা ও নিরাপত্তা উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে মারা যাওয়ার পর আজ যে সচেতনতা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেটা দেখে আমার ভালো লাগছে। কিন্তু আমার আরও বেশি ভালো লাগবে তখনই, যখন আমার সন্তানের হত্যার বিচার সঠিকভাবে হয় এবং এটার শাস্তি যেন ফাঁসি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারণ যারা আমার সন্তানকে হত্যা করেছে, তারা যদি কোনোভাবে আবার সমাজে ফিরে আসে, তাহলে আমরা ইনসিকিউর (অনিরাপদ)। এদের বিচার যদি সঠিকভাবে না হয়, তাহলে তারা এগুলোর পুনরাবৃত্তি করবে।’

সভায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‍্যাব, এসআরবি, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, মেস মালিক, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা পরিষদ, বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ওয়াসা, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (বার্ড), কুমিল্লা জাদুঘর, উপজেলা প্রশাসন ও এনএসআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ জানায়, এ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও দুই কিশোরকে (১৫ ও ১৬ বছর) এবং জড়িত সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সিয়াম বাদে বাকি তিন জন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।