...|...|...

বিশ্ব

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার কী, কেন এটিকে ‘এশিয়ার নোবেল’ বলা হয়?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:৪৮ | আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:৪২
Shares
র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার কী, কেন এটিকে ‘এশিয়ার নোবেল’ বলা হয়?

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারের প্রতীকী পদক। ছবি: এআই জেনারেটেড

এশিয়ায় মানবকল্যাণ, সামাজিক পরিবর্তন ও নিঃস্বার্থ সেবায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয় র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার। এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারকে অনেক সময় ‘এশিয়ার নোবেল’ বলা হয়। তবে এটি নোবেল পুরস্কারের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত কোনো পুরস্কার নয়; এশিয়ায় এর দীর্ঘদিনের মর্যাদা ও প্রভাবের কারণেই এমন উপমা প্রচলিত হয়েছে।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার কী?

ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে ১৯৫৭ সালে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছর, ১৯৫৮ সালের ৩১ আগস্ট প্রথমবার এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এশিয়ার মানুষের জন্য সাহস, সৃজনশীলতা ও নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মান জানানোই এ পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য।

কেন ‘এশিয়ার নোবেল’ বলা হয়?

ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সমাজসেবী, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, শান্তিকর্মী, শিক্ষাবিদ ও পরিবর্তনমূলক নেতৃত্বকে এ পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়েছে। পুরস্কারটি এশিয়ার অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে এটি ‘এশিয়ার নোবেল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘এশিয়ার নোবেল’ কোনো আনুষ্ঠানিক নাম নয়। র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন নিজেই এটিকে ‘এশিয়ার প্রিমিয়ার প্রাইজ অ্যান্ড হায়েস্ট অনার’ হিসেবে উল্লেখ করে।

কোন কোন ক্ষেত্রে দেওয়া হতো?

১৯৫৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পুরস্কারটি ছয়টি বিভাগে দেওয়া হয়েছে। বিভাগগুলো হলো-

১. সরকারি সেবা : জনস্বার্থে অসাধারণ সরকারি সেবার স্বীকৃতি।

২. জনসেবা : ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য।

৩. কমিউনিটি নেতৃত্ব : পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নেতৃত্বের জন্য।

৪. সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও সৃজনশীল যোগাযোগ শিল্প: লেখালেখি, প্রকাশনা, ফটোগ্রাফি, রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র বা পারফর্মিং আর্টসের মাধ্যমে জনকল্যাণে অবদানের জন্য।

৫. শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া: শান্তি, সহনশীলতা, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে অবদানের জন্য।

৬. উদীয়মান নেতৃত্ব : ৪০ বছর বা তার কম বয়সী ব্যক্তির উল্লেখযোগ্য সামাজিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে।

তবে ২০০৯ সাল থেকে পুরস্কারটি আর নির্দিষ্ট ছয়টি বিভাগে সীমাবদ্ধ নেই। শুধু ‘Emergent Leadership’ বিভাগটি আলাদাভাবে চালু রয়েছে। বর্তমানে এশিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মানবিক সমস্যার সমাধানে অসাধারণ কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ থেকেও পেয়েছেন অনেকে

বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফজলে হাসান আবেদ (১৯৮০), ড. মুহাম্মদ ইউনূস (১৯৮৪), জাফরুল্লাহ চৌধুরী (১৯৮৫), রিচার্ড টিম (১৯৮৭), মোহাম্মদ ইয়াসিন (১৯৮৮), অ্যাঞ্জেলা গোমেজ (১৯৯৯) এবং আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ (২০০৪)।

কতটা মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার?

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত এশিয়ার ২৪টি দেশ ও অঞ্চলের ৩৫৬ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে দালাই লামা, মাদার তেরেসা, আকিরা কুরোসাওয়া, ফজলে হাসান আবেদ ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো বিশ্বপরিচিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারের বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যকে নয়—মানুষের জন্য কাজ, সামাজিক পরিবর্তন এবং এশিয়ার বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধানে অবদানকে স্বীকৃতি দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে এই মূল্যবোধ ধরে রাখার কারণেই এশিয়ার সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কারগুলোর একটি হিসেবে এর অবস্থান তৈরি হয়েছে।