...|...|...

সারাদেশ

রোহিঙ্গা নারীকে নাগরিক সনদ দেওয়ার অভিযোগে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান অপসারিত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৩৪
Shares
রোহিঙ্গা নারীকে নাগরিক সনদ দেওয়ার অভিযোগে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান অপসারিত

রোহিঙ্গা নারীকে নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদ দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. লিয়াকত আলীকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. লিয়াকত আলী বাংলাদেশের নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও রোহিঙ্গা নারী মোছা. রোকেয়া বেগমকে নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করেন।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর লিয়াকত আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। একই দিন আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তাকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. বিপাশা হোসাইন বলেন, উচ্চ আদালত থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ লিয়াকত আলীর পদ বহালের বিষয়ে আবারও চার মাসের সময় বাড়ানো হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

তবে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত লিয়াকত আলী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট রোকেয়া বেগম ও তার স্বামী মো. আনিছ ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করার চেষ্টা করেন। এ সময় কামারখন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সন্দেহ হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা কক্সবাজারের উখিয়ার টেংখালী ক্যাম্প-১২-এর জি-৪ ব্লকের রোহিঙ্গা শরণার্থী বলে স্বীকার করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এরপর ওই দিন বিকেলে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদ রানা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ রোকেয়া বেগম ও তার স্বামী মো. আনিছকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

ঘটনাটি তদন্তের সময় ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যানের দেওয়া নাগরিকত্ব সনদের বিষয়টি সামনে আসে। এরপর প্রশাসনিকভাবে তদন্তের মাধ্যমে লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।