...|...|...

জাতীয়

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১২:১১ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ২:০৬
Shares
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক পার্শ্ব বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কয়েকটি অংশীদার এতে সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিয়ানমারের ভেতরে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

তার পাঁচ দফা প্রস্তাবের দ্বিতীয়টিতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাসহ বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নিজভূমিতে নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত হলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা তৈরি হবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তৃতীয় প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নও যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

চতুর্থ প্রস্তাবে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থাগুলোকে অব্যাহত সহযোগিতা এবং গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান। গাম্বিয়ার নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান জবাবদিহির উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ অন্যান্য ব্যবস্থার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

পঞ্চম প্রস্তাবে মাদকপাচার, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্রসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়ায় এ ধরনের অপরাধ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নয়, বরং নয় বছরের বেশি সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত থাকায় নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরস্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সাথে বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি এ ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানান।