...|...|...

সারাদেশ

রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র রোহান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:০৪
Shares
রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র রোহান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

ছবি: টাইমস টুডে

রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (১৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়দের একাংশ দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় আগুন নেভাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে ফায়ার সার্ভিস।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক রহস্য তুলে ধরেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪) ও মো. রিয়াজ সরদার (২৩) এবং সমেশপুর এলাকার মো. শরীফ (২৭)। এর আগে শনিবার ভোর ৪টার দিকে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জমিজমা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে রোহানকে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশের পেট কেটে বস্তাবন্দি করে বালুভর্তি বস্তা বেঁধে একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিখোঁজের তিন দিন পর গত ৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রোহানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পেট কাটার চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় রোহানের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মামলাটি নথিভুক্ত হয়।

পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেখানো মতে ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে একটি ছুরি ও গামছা এবং রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে একটি কালো টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার বিনয় কুমার দাসের একটি পুকুরের কচুরিপানার মধ্য থেকে রোহানের ব্যবহৃত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

রোহান হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরিচয় জানার পর শনিবার দুপুরে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়দের একাংশ দুটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে একটি বাড়ি আলাল সরদারের, যাদের সাথে রোহানের পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে। অন্য বাড়িটি আলাল সরদারের বোনের।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক জানান, বক্তারপুর গ্রামের একটি বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রঘুনাথপুর গ্রামের আরেকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছালেও ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের বাধার কারণে আগুন নেভানোর কাজে বিঘ্ন ঘটে।

পুলিশ সুপার বলেন, এখন পর্যন্ত দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছেন তারা। রঘুনাথপুরে আগুন নেভাতে রোহানদের পরিবারের পুকুর থেকে পানি নেওয়ার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা বাধা দেন। তবে ফায়ার সার্ভিস বিকল্প উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে।

রোহান হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ ও আলামত নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। অন্যদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।