...|...|...

ক্যাম্পাস

রণক্ষেত্র নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালে ৬

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:০৮
Shares
রণক্ষেত্র নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়,  হাসপাতালে ৬

ছবি;’ প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে টুর্নামেন্ট চলাকালে বল সীমানায় যাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চার দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, অগ্নিবীণা হলের সামনে, কলা ভবনের সামনে ও পেছনে এসব সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের সবাইকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে চারজনকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান নজরুল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) ম্যাচের সময় মাঠের সীমানার ভেতরে বল চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টুর্নামেন্টের আয়োজক ও পাশেই ফুটবল খেলতে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা ও গালাগালির ঘটনা ঘটে। পরে খেলা শেষে বিরোধ মীমাংসার জন্য দুই পক্ষ একত্র হলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় ইংরেজি ও ভাষা সাহিত্য বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভকে ২০তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী চড় মেরেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনার জেরে অগ্নিবীণা হল ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে এনপিএল আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাত, নাসিম ও আরেক খেলোয়াড়কে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাঠে ফুটবল খেলতে আসা ইংরেজি এবং লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনাবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। পরে তাদের কয়েকজন কলা ভবনের সামনে অবস্থান নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ও আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাতের নেতৃত্বে শতাধিক শিক্ষার্থী কলা ভবনের সামনে গেলে দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে কলা ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সেখান থেকে সরে যায়। পরে কলা ভবনের পেছনে তিনজনকে পেয়ে রড ও ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সাথেও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরটিভি প্রতিনিধি আবু তাহেরের ওপরও চড়াও হন কয়েকজন শিক্ষার্থী। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তার মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও মুছে ফেলা হয়। তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

পরে আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজি, লোকপ্রশাসন ও চারুকলা বিভাগের রবিউল, সাকিব, রাফি ও রোমানকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, অপর পক্ষের দিদারুল ইসলাম আঘাত পেয়ে ত্রিশাল মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন। সিফাতকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, প্রক্টরসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা কখনোই কাম্য নয়। মোট ছয়জন আহত বলে জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলতে পারব।’