ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের একটি কোর্সের উত্তরপত্র হারানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিভাগে কর্মরত পিওন জাবেদকে কর্মস্থলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হারানো উত্তরপত্রটির দ্বিতীয় পরীক্ষক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ২১০৭ নম্বর কোর্সে প্রথম পরীক্ষকের দেওয়া নম্বরকে দ্বিতীয় পরীক্ষকের নম্বর হিসেবে গ্রহণ করে ফলাফল প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে পরীক্ষার কাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের পিওন জাবেদ বলেন, ‘বিভাগের শিক্ষকদের নামে বরাদ্দকৃত পরীক্ষার উত্তরপত্র লেনদেনসহ অধিকাংশ কাজ আমি করি। প্রায় তিন মাস আগে পুরোনো কাগজের সাথে খাতাগুলো বিক্রি করে দিয়েছি। এর কিছুদিন পর খাতাগুলো খোঁজাখুঁজি শুরু হলে আমি খাতা বিক্রির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জানিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দ বলেন, ‘আমরা সব বিষয় তদন্ত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এখানে কাউকে ফাঁসানো বা কারও প্রতি অবিচার করা হয়নি।’
জানা যায়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা গত ২ মে শুরু হয়ে ২০ মে শেষ হয়। ছয়টি কোর্সের মধ্যে পাঁচটির মূল্যায়ন নম্বর পরীক্ষা কমিটির সভাপতির কাছে জমা পড়লেও ২১০৭ নম্বর কোর্সের উত্তরপত্র না পাওয়ায় ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি বিভাগ।
সূত্র জানায়, গত ১১ মে কোর্সটির উত্তরপত্র পান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক ড. শাহাবুল আলম। ২০ মে মূল্যায়ন শেষে তিনি উত্তরপত্রগুলো বিভাগে জমা দেন। পরে বিভাগের কর্মচারী জাবেদ আলী ৬০টির বেশি উত্তরপত্রের বান্ডিল বহিরাগত পরীক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের কাছে পৌঁছে দেন বলে জানান তিনি। এরপর থেকেই উত্তরপত্রগুলোর হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি বিভাগীয় শিক্ষকদের।
এদিকে প্রথম সেমিস্টারের ফল প্রকাশ না হলেও বিভাগ ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করে। পরে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এ ঘটনায় তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটি গত ৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর প্রতিবেদন জমা দেয়।


