...|...|...

সারাদেশ

যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূ ও মাকে কুপিয়ে জখম

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৬ জুলাই ২০২৬, ভোর রাত ৪:৫২ | আপডেট: ৫ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১৫
Shares
যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূ ও মাকে কুপিয়ে জখম

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের সোলারচর এলাকায় যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূ তার মায়ের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, কুপিয়ে জখম, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় স্বামীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

থানায় দেওয়া অভিযোগে মো. আব্দুল কাইয়ুম হোসেন জানান, তার জেঠাতো বোন মারজানের (২২) সাথে ছয় বছর আগে সোলারচরের আমজাদ হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১১ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মারজানকে নিয়মিত শারীরিক মানসিক নির্যাতন করা হতো।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আমজাদ হোসেনকে বিদেশ পাঠানোর জন্য মারজানের পরিবার লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দেশে ফেরার পর মিশুক গাড়ি কেনার জন্য আরও লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়। এরপরও অভিযুক্তরা অতিরিক্ত লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। ওই টাকা না দেওয়ায় মারজানকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হতে থাকে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমজাদ হোসেনসহ আটজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারজানের মায়ের বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ হামলা চালায়। একপর্যায়ে মারজানকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে মারধরের পর রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন। মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার মা আসমা বেগমকেও মারধরের পাশাপাশি মাথায় কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় মারজানের গলা থেকে এক ভরি এবং তার মায়ের গলা থেকে দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য লাখ ৫০ হাজার টাকা। সময় যৌতুকের টাকা না দিলে মা-মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত মা মেয়েকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাদের মাথায় সেলাই দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনায় স্বামী আমজাদ হোসেনসহ আটজনকে আসামি করে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আর মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানায় বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, আসামি দ্রুত গ্রেফতারের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।