...|...|...

সারাদেশ

চুরির অভিযোগে ছাদে নিয়ে মারধর, খুবি এলাকায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:২৪
Shares
চুরির অভিযোগে ছাদে নিয়ে মারধর, খুবি এলাকায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আবাসিক হলসংলগ্ন একটি মেসে চুরির অভিযোগে মারধরের পর আজমল হোসেন (২২) নামে এক শিক্ষার্থীর পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে। 

নিহত আজমল নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ওই ভবনের একটি মেসে থাকতেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকায়।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত দেড়টার দিকে নগরীর ইসলামনগর রোডে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, চুরির অপবাদ দিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আজমলকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে ভবনের ছাদে নিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে তিনি নিচে পড়ে যান। তবে তিনি নিজে লাফ দিয়েছিলেন, নাকি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাত ১২টার পর আজমলের মোবাইল ফোন থেকে এক যুবক তাকে কল করে এক লাখ টাকা নিয়ে দ্রুত খুলনায় আসতে বলেন।

তিনি বলেন, 'কয়েকজন ছেলে ফোন করে বলে, আপনার ছেলে আমাদের জিনিস চুরি করছে। এখনই এক লাখ টাকা দিতে হবে। আমি বলি, আমি যত দ্রুত পারি খুলনায় আসছি। এসে তোমাদের সাথে কথা বলব।'

কুতুব উদ্দিন জানান, এরপর রাতেই বাড়ি থেকে খুলনার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। ভোরে মেসে গিয়ে ছেলেকে না পেয়ে স্থানীয়দের কাছে জানতে পারেন, আজমলকে মারধর করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

'সকালে এসে দেখি আমার ছেলে আর বেঁচে নেই,' বলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আজমল খুলনায় পৌঁছান। রাত ৯টার দিকে পরিবারের সাথে তার শেষ কথা হয়। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি ভালো আছেন এবং তাকে নিয়ে যেন চিন্তা না করা হয়।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই তার মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয় বলে জানান তার বাবা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের বিপরীতে ইসলামনগর রোডের ওই ভবনের আটটি কক্ষের সাতটিই তালাবদ্ধ। ডি-৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন আজমল।

ডি-১ নম্বর কক্ষে থাকা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাবিব বিশ্বাস রাসেল বলেন, 'চুরির অভিযোগে মেহেদীসহ কয়েকজন আজমলকে ছাদে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মারধর করা হয়।' তবে এরপর কীভাবে আজমলের মৃত্যু হয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি।

ভবনের ছাদে গিয়ে এক পাশে ধুলাবালি ও ছ্যাদলা সরে যাওয়ার মতো চিহ্ন দেখা গেছে। তবে এসব চিহ্নের সাথে আজমলের পড়ে যাওয়ার ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পাশের ভবনের এক নারী বাসিন্দা জানান, শুক্রবার দিরগত রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি জোরে একটি শব্দ শুনতে পান।

তিনি বলেন, 'দরজা খুলে বাইরে এসে দেখি বাড়ির সামনে গলির মধ্যে একটি ছেলে পড়ে আছে। পরে ছাত্ররা অ্যাম্বুলেন্স এনে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।'

স্থানীয় কয়েকজন বাড়ির মালিকও জানান, রাত ১টার দিকে ওই ভবন থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তারা বাইরে বের হন। তারা ভবনের ওপরের দিকে একজনকে মারধর করা হচ্ছে এবং তার চিৎকারের শব্দ শুনেছেন বলে জানান।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং দুই পা ভাঙা ছিল। মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

হাসপাতালে ভর্তি করার ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই আজমলের মৃত্যু হয়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কয়েকজন ছাত্র পরে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

শনিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে আজমলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা লাশ নিয়ে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে রওনা হন।

নগরীর হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, 'চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আকিবের পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায় ঝামেলা হয়েছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন। সকালে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানতে পারি, আজমলকে চুরির অভিযোগে ধরে নিয়ে মারপিট করা হয়। পরে সে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে অসুস্থ হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যায়।'

তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

হরিণটানা থানার ওসি তদন্ত মো. মুরাদ হোসেন মিলন বলেন, 'ঘটনাটির আমরা তদন্ত করছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।'

আজমলের বাবার করা এক লাখ টাকা দাবির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'নিহতের বাবা এরকম কথা আমাদের বলেছেন। সত্যতা যাচাই-বাছাই করছি।'

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, 'ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনায় আমাদের কিছু করার নেই। তবে আমরা পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি এবং তাদের সহায়তা করছি।'