...|...|...

ধর্ম

যে ৫ শ্রেণির মানুষের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন না

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:৫৪ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:২২
Shares
যে ৫ শ্রেণির মানুষের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন না

ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কোনো শেষ নেই। সুখ-দুঃখ, বিপদ-আপদ কিংবা প্রয়োজনের মুহূর্তে মুমিন বান্দা মহান আল্লাহর কাছেই সাহায্য চান। আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম হলো দোয়া। বিনয় ও একাগ্রতার সাথে করা দোয়া একজন মুমিনের জন্য বড় আশ্রয়।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি দোয়া কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দোয়া করে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৬) ।

দোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া সব ইবাদতের মূল।’ (তিরমিজি)।

তবে দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে অন্যতম হলো হালাল উপার্জন ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণ। হারাম উপার্জন, হারাম খাবার ও পানীয় দোয়া কবুলের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু (হালাল) হতে ভক্ষণ করো এবং নেক কাজ করো।’ (সুরা মুমিন: ৫১) ।

অন্য আয়াতে মুমিনদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, আমি তোমাদেরকে যে হালাল রিজিক দিয়েছি তা থেকে আহার কর এবং আল্লাহর জন্য শোকর কর, যদি তোমরা শুধু তারই ইবাদাত কর।’ (সুরা বাকারা: ১৭২)।

ওলামায়ে কেরাম এসব আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, মানুষের উপার্জন ও খাদ্য-পানীয়ের সাথে হারাম যুক্ত হলে তা দোয়া কবুলের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। হাদিসে কয়েক ধরনের মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের দোয়া কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে।

১. হারাম উপার্জন ও খাবারে অভ্যস্ত ব্যক্তি

হারাম উপার্জন করে জীবনযাপন করা এবং সেই অর্থে খাদ্য, পানীয় ও পোশাকের ব্যবস্থা করা দোয়া কবুলের পথে অন্যতম অন্তরায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) হারাম খাদ্য, পানীয় ও বস্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

অন্যদিকে হালাল ও পবিত্র জীবিকা দোয়া কবুলের অন্যতম কারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন সাদ (রা.)-কে বলেন, ‘হে সাদ, তোমার খাদ্য পবিত্র করো, তাহলে মুস্তাজাবুদ দাওয়াত (যার দোয়া কবুল হয়) হতে পারবে।’ (আল মুজামুল আওসাত: ৬৪৯৫)

অর্থাৎ দোয়া কবুলের প্রত্যাশা করলে নিজের উপার্জন ও খাদ্যের উৎস হালাল কি না, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

২. দোয়া করে হতাশ হয়ে পড়েন যারা

দোয়া করার পর দ্রুত ফল না পেয়ে হতাশ হয়ে যাওয়া মুমিনের জন্য উচিত নয়। আল্লাহর রহমত ও ক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে দোয়া করতে হয়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে; যদি-না সে তাড়াহুড়ো করে আর বলে, আমি দোয়া করলাম, কিন্তু আমার দোয়া তো কবুল হলো না।’ (বোখারি: ৬৩৪০)

তাই দোয়া করার পর সাথে সাথে ফল না পেলেও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস হারানো যাবে না। বান্দাকে বিশ্বাস রাখতে হবে, আল্লাহ তার দোয়া সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞান রাখেন এবং যথাসময়ে তার জন্য কল্যাণকর সিদ্ধান্তই দেন।

৩. সৎকাজের আদেশ ও অন্যায় প্রতিরোধে অবহেলা

মানুষের ওপর আল্লাহর কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সৎকাজের প্রতি উৎসাহ দেওয়া এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখার দায়িত্বও এর অন্তর্ভুক্ত। এ দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে হাদিসে কঠোর সতর্কতা এসেছে।

হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ। নিশ্চয়ই তোমরা সৎ কাজের জন্য আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজের প্রতিরোধ করবে। তা না হলে আল্লাহ তায়ালা শিগগির তোমাদের ওপর তার শাস্তি অবতীর্ণ করবেন। তোমরা তখন তার কাছে দোয়া করলেও তিনি তোমাদের সেই দোয়া গ্রহণ করবেন না।’ (তিরমিজি: ২১৬৯)

অতএব আল্লাহর নির্দেশিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে শুধু দোয়ার ওপর নির্ভর করা সঠিক নয়।

৪. আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অকারণে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে হাদিসে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এমনকি এ ধরনের পাপের প্রভাব দুনিয়া ও আখিরাতেও পড়তে পারে।

হাদিসে বলা হয়েছে, ‘কোনো মুসলিম দোয়া করার সময় কোনো গোনাহের অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের দোয়া না করলে অবশ্যই আল্লাহ তাকে এ তিনটির কোনো একটি দান করবেন—হয়তো তাকে তার কাঙ্ক্ষিত সুপারিশ দুনিয়ায় দান করবেন, অথবা তা তার পরকালের জন্য জমা রাখেন, কিংবা অথবা তার কোনো অকল্যাণ বা বিপদ থেকে তাকে রক্ষা করবেন।’

এ কথা শুনে সাহাবিরা বলেন, তাহলে তো আমরা অনেক বেশি লাভ করব। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ এর চেয়েও বেশি দেন।’ (আত-তারগীব: ১৬৩৩)

এই হাদিসের আলোকে ইসলামি স্কলাররা বলেন, শরীয়াহ কারণ ছাড়া রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখা দোয়া কবুলের পথে বাধা সৃষ্টি করে। তাই আত্মীয়তার বন্ধন অকারণে নষ্ট না করে তা বজায় রাখার চেষ্টা করা জরুরি।

৫. অমনোযোগী ও অসাড় মনে দোয়া

দোয়ার সময় শুধু মুখে শব্দ উচ্চারণ করাই যথেষ্ট নয়; অন্তরে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও পূর্ণ মনোযোগ থাকাও জরুরি। অমনোযোগী বা অসাড় মন নিয়ে দোয়া করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা কবুল হওয়ার পূর্ণ আস্থা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। জেনে রেখো, আল্লাহ অমনোযোগী ও অসাড় মনের দোয়া কবুল করেন না।’ (তিরমিজি: ৩৪৭৯)

তাই দোয়ার সময় নিজের মনকে একাগ্র রাখা, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং দোয়া কবুলের বিষয়ে হতাশ না হওয়া একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।