রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও যদি সারাদিন শরীরে ক্লান্তি থাকে, কাজে মন না বসে কিংবা বারবার ঘুম পেতে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। অনেক সময় শরীরে প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিনের ঘাটতির কারণেও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও ঘুম ঘুম ভাবের পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি। শরীরে এই দুই ভিটামিনের মাত্রা কমে গেলে দুর্বলতা, অবসাদ ও কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন ডির ঘাটতিতে কী হয়?
শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি চুল পড়া, পেশিতে দুর্বলতা ও সার্বক্ষণিক ক্লান্তিও অনুভূত হতে পারে।
বিশেষ করে দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকলে শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া খাবারের মাধ্যমেও এই ঘাটতি দেখা দিতে পারে। দুধ, দই, পনিরসহ ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
ভিটামিন বি১২ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভিটামিন বি১২ শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এটি লোহিত রক্তকণিকা তৈরি, ডিএনএ উৎপাদন এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি হলে অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা, মনোযোগের ঘাটতি এবং সারাক্ষণ ঘুম পাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রক্তস্বল্পতার কারণেও এমন লক্ষণ দেখা যায়।
কোন খাবারে মিলবে ভিটামিন?
ভিটামিন বি১২-এর ভালো উৎস হলো মাছ, মাংস, ডিম ও সামুদ্রিক মাছ। অন্যদিকে ভিটামিন ডির জন্য দুধ, দই, পনিরসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া সয়াবিনেও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।
তবে শুধু লক্ষণ দেখে নিজে থেকে ভিটামিনের ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ঘুম, দুর্বলতা বা ক্লান্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা উচিত।
শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তন অনেক সময় বড় সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়।


