...|...|...

জাতীয়

যে কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেয়নি ইসলামী আন্দোলন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:৫৮ | আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:২২
Shares
যে কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেয়নি ইসলামী আন্দোলন

জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে হওয়া জাতীয় ঐকমত্য থেকে সরে আসার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বিবৃতিতে গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ অলংকারিক হলেও জাতীয় সংকট ও জাতীয় নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি দেশের সার্বজনীন ঐক্য ও আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, এ সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। সেখানে বিএনপিরও কোনো নোট অব ডিসেন্ট ছিল না। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামী আন্দোলন প্রত্যাশা করেছিল, জুলাই সনদে সম্মত নীতির ভিত্তিতেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু তা না হওয়ায় এই নির্বাচনে ভোট দেওয়া সমীচীন মনে করেনি দলটি।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, জুলাই সনদের ধারা ১০ এ রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের- উচ্চ ও নিম্নকক্ষের- সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই একমত ছিল এবং কোনো নোট অব ডিসেন্টও ছিল না।

অন্যদিকে, ধারা ২৮ এ অর্থ বিল ও আস্থাভোট ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। এ বিষয়েও বিএনপিসহ সবার সম্মতি ছিল।

গাজী আতাউর রহমানের অভিযোগ, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া এই দুটি বিষয়ের কোনোটিই মানা হচ্ছে না। তিনি এটিকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি’ বলে মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, যে নীতি ও আইনের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে, সেটিকে আদৌ নির্বাচন বলা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা আগে থেকেই নিশ্চিত হয়ে থাকলে এমন নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান যার নাম ঘোষণা করবেন, তাকেই বঙ্গভবনে নিয়ে বসিয়ে দিলেই হতো। নির্বাচন কমিশন, সংসদ সদস্য ও সংসদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রক্রিয়া জনগণের অর্থের অপচয় এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে হেয় করা ছাড়া আর কিছু নয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিন্দা জানিয়ে গাজী আতাউর রহমান জুলাই সনদে করা ঐকমত্য অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নতুন করে আয়োজনের দাবি জানান তিনি।